নীল রায়। পুলিশি নিরাপত্তায় ভরসা করে হালিশহর পৌরসভার আটজন দলছুট কাউন্সিলরকে দলে ফেরার তৃণমূল। অথচ লোকসভা ভোটে হারের পর নেতাকর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ দিচ্ছেন পুলিশি নির্ভরতা কাটিয়ে দলীয় সংগঠন করুন। গত মাসেই সদলবলে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে দিল্লি গিয়ে ঘটা করে গেরুয়া শিবিরের যোগদান করেছিলেন কাউন্সিলররা। কিন্তু মঙ্গলবার বিধানসভার সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে “ঘর ওয়াপসি” হল তাদেরই। সঙ্গে ওই আটজন কাউন্সিলরকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এদিন বিধানসভায় মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের ঘরে কাউন্সিলরদের তালিকা তৈরি হয়। যা পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র দফতরের। এ ব্যাপারে সক্রিয় উদ্যোগ নেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও ওই জেলারই যুব সংগঠনের সভাপতি নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশনামায় সীলমোহর দেওয়ার আগে তা দেখানো হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এদিন যিনি আবার ছিলেন বিধানসভাতেই। শুধু চিঠি দেখে সীলমোহর নয়, সরাসরি পুলিশকর্তা জ্ঞানবনত সিংকে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী ওই কাউন্সিলরদের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, লোকসভা ভোটে হারের পর এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে সমস্ত বৈঠকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। সেখানেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে তাঁর এক এবং অদ্বিতীয়ম ঔষধ হচ্ছে, “প্রশাসন ও পুলিশ নির্ভরতা ছেড়ে আগের মত করে রাজনীতি করুন এলাকায়। ঠিক যেমন ক্ষমতায় আসার আগে ১৯৯৮-২০১১ সাল পর্যন্ত করেছিলেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের সিদ্ধান্তে ধরা পড়েছে দ্বিচারিতা। যে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন পুলিশ নিয়ে নির্ভর রাজনীতি আর করা যাবে না। তিনি আবার দলীয় কাউন্সিলরদের পুলিশি নির্ভরতা দিয়ে দলে ফেরাচ্ছেন! কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পুলিশি প্রহরা দিয়ে এই কাউন্সিলরদের ধরে রাখা যাবে তো? তাই স্বাভাবিকভাবেই গুঞ্জন উঠছে, পুলিশ বাহিনী দিয়ে কাউন্সিলরদের “ঘর ওয়াপসি”-র দ্বিমুখী রাজনীতি কতটা কার্যকর হবে, তা বলবে আগামীদিন। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news