Breaking News
Home / TRENDING / জয়ের জন্য মমতার ভরসা সংখ্যালঘু ও সিপিএম, পড়ুন বিস্তারিত

জয়ের জন্য মমতার ভরসা সংখ্যালঘু ও সিপিএম, পড়ুন বিস্তারিত

নীল রায়:

বাংলায় কোন রাজনৈতিক দল কটা আসন পাবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে অনেকদিন ধরেই। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় মাস আটেক আগে থেকেই দাবি করে আসছেন, তাঁরা রাজ্যের ৪২টি আসনেই জয়লাভ করবেন। তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাদের দাবি গত ৮ বছরের যে “অভূতপূর্ব উন্নয়ন” পশ্চিমবঙ্গের দিদি করেছেন তারই ফলস্বরূপ ৪২ টি আসন পাওয়ার দাবি করছেন তিনি। কিন্তু আড়ালে আবডালে তৃণমূলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। লোকসভা ভোটে যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো পুলিশকে পাশে নিয়ে ভোট লুঠ করা যাবে না, তা একপ্রকার ধরেই নিয়েছে তৃণমূল। তা সত্বেও লুঠের এই “গুরুমারা বিদ্যা” ভোট ময়দানে কার্যকর করার মরিয়া চেষ্টা চালানো হবে বলেই খবর মিলেছে সূত্র মারফৎ।‌ এছাড়াও আরও দুটি কারণ রয়েছে যাতে নির্ভর করেই তারা রাজ্যের বেশি সংখ্যা আসনে জয়ের কথা বলছেন। প্রথমত রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট, দ্বিতীয়ত সি পি আই এম। প্রথম কারণ প্রসঙ্গে রাজ্যের মানুষ কমবেশি অবগত থাকলেও, দ্বিতীয়টি শুনলে অনেকেই ভাবনায় পড়বেন। যে সিপিএম দলকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল, তার ওপরে কিনা তাদের লোকসভা ভোটের আসন বৃদ্ধি নির্ভর করছে? এমন প্রশ্ন কতটা যুক্তিযুক্ত? শাসক দলের নেতৃত্বের কথায় রাজ্যের কমপক্ষে ৩৫টি আসনের সরাসরি লড়াই হবে বি জে পি বনাম তৃণমূল। এই আসনগুলোতে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট যদি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোট ধরে রাখতে পারে, তাহলেই “কেল্লাফতে”। তৃণমূল নেত্রী তো ভালই জানেন এবারের ভোটে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি হবে গেরুয়া শিবিরের ভোট। কিন্তু, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এক মন্ত্রীর কথায়, সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের সেই শতাংশ ভোট ধরে রাখতে পারে তাহলে রাজ্যের ৪২ টি আসনে জিততে পারে তৃণমূল। কিন্তু, সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে তাও এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী বারবার এই রাজ্যে প্রচারে আসায় বিজেপি ভোট বাক্স যে ফুলে ফেঁপে উঠবে তা মেনে নিচ্ছেন রাজ্য সরকারের ওই বরিষ্ঠ মন্ত্রী। এবং তা অবশ্যই বেশি সংখ্যক সিপিএমের ভোট ভেঙেই। কিন্তু, তা সত্ত্বেও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোট বামেরা ধরে রাখতে পারবে বলেই মনে করছে তৃণমূল। ফলস্বরূপ ৩৪টি বা তার থেকেও বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে তৃণমূলের কাছে। তাছাড়া, রাজ্যের ২৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট যে উজাড় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাবেন তা একপ্রকার নিশ্চিত বাংলা শাসক দল। এই দুইয়ের যোগফল যদি ঠিক ঠিক মিলে যায় তাহলে ২৩ মে হাসিমুখেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা রাজনীতিতে পাটিগণিতের অংক মেনে “দুয়ে দুয়ে চার” সব সময় সম্ভব হয় না। যদি হতো, তাহলে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস-সিপিএমের ভোট এক হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *