চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
প্রথম দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘোষিত ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্প (Prochesta Project)। লকডাউনের প্রভাবে জীবন জীবিকা একরকম বন্ধ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের। মূলত অসংগঠিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেই রাজ্য সরকার ‘প্রচেষ্টা’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পে আবেদনকারীদের মাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। দিন কয়েক আগেই বিলি হয়েছে ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্পের ফর্ম। সোমবার আধার কার্ড সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সমেত সেই ফর্ম জমা শুরু হয় বিভিন্ন পুরসভা এবং ব্লক কার্যালয়গুলিতে। বেলা এগারোটা থেকে আবেদনকারীদের ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছিল। আচমকা তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামাজিক দূরত্ব ব্যাহত হওয়ার কারণেই ফর্ম জমা নেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।

‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্পের ফর্ম জমা নেওয়া বন্ধ করায় আবেদনকারীদের বিক্ষোভ ছড়িয়েছে মূলত গ্রামীণ এলাকায়। বড়সড় অসন্তোষের খবর এসেছে কয়েকটি জেলা থেকেও। ব্যারাকপুর মহাকুমা এলাকার এক তৃণমূল নেতার কথায়, গোড়াতেই গলদ হয়েছে প্রচেষ্টা প্রকল্পের। প্রকল্প ঘোষণার সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মহকুমা ও ব্লক অফিসে শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি মহকুমা বা একটি ব্লকের অধীনে যে সমস্ত অঞ্চল থাকে সেই সমস্ত শ্রমিকদের একসঙ্গে সমাগম হবে। স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে যাবে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। বরং এই পদ্ধতিতে যদি গ্রাম পঞ্চায়েত আবেদনের কথা বলা হতো তাহলে হয়তো এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যেত। এই নেতার কথায়, প্রচেষ্টা প্রকল্প শুরুর দিকেই এভাবে সরকারের পিছু হটাতে এবার বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।
ঘটনাচক্রে এদিনই ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্প শুরুতেই হোঁচট খাওয়ায় বরজোড়ার সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী প্রশাসনকে কড়া চিঠি দিয়েছেন। তিনি তাঁর চিঠিতে দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে প্রচেষ্টা প্রক্রিয়া চালু করতে হবে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে। তাঁর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত গঙ্গাজলঘাটি ও বরজোড়া ব্লকে এদিন প্রকল্পের কাজ শুরু করেও মাঝপথে তা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এই ঘটনার জেরে এদিন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news