নীল রায়:
ভোটারদের কী প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে সভায় অনুষ্ঠিত তার মন্তব্যেকে ঘিরে এমনই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মমতা বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের পর চলে যাবে। কিন্তু রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রয়ে যাবে বাংলার পুলিস বাহিনী। বদল করে কিছু হবে না জেনে রাখুন।” কমিশন প্রতি দফার আগেই শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক থেকে থানার আইসি পর্যন্ত বদলি করে দিচ্ছেন। যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত পঞ্চায়েতে পুলিশের সমর্থন নিয়েই গ্রামীন বাংলার বড় অংশের যেন তাকে ভোট দিতে যায়নি তাঁর দল। মনটাই অভিযোগ ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির। এমন প্রশাসনিক তৎপরতায় যদি বাংলার মানুষ উজার করে বিজেপিতে ভোট দেয়, তাতে ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে। তেমন ফলের আশঙ্কায় এমন মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। এদিন তিনি বলেন, “যেভাবে দেশ চলছে, তাতে আর বেশিদিন ভারতের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না৷ কারণ, নোট বাতিলের মতো একদিন গণতন্ত্রকেও বাতিল করে দেবে মোদিরা৷” মমতা আরও বলেন, “দিল্লির গদিতে আবার বসতে চাইছে৷ দিল্লির গদি এবার আর পাবে না৷ পাবে বাংলার লাড্ডু, যাতে কিসমিস-কাজুর বদলে থাকবে কাঁকর, স্টোনচিপস৷ খাবে আর বুঝতে পারবে বাংলা দখল করতে আসা কত কঠিন৷” বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক হাতে গদা আরেক হাতে তলোয়ার নিয়ে হিন্দু ধর্ম শেখাতে এসেছে৷ এখানে দুর্গাপুজো হয় না বলে যেকথা বারবার বলছেন নরেন্দ্র মোদি, তা ডাহা মিথ্যে কথা৷” এদিনের সভায় তার মন্তব্যে ঘুরে ফিরে এসেছে বিজেপির প্রতি আক্রমণ ও হিন্দু ধর্মের প্রতি নরম মনোভাব। রাজ্যের বড় অংশের হিন্দু ভোটাররা গেরুয়া শিবিরে যেদিকে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই প্রায় নিয়ম করে প্রতি সভায় হিন্দু দেবদেবীর নাম করছেন, মন্ত্র আওড়াচ্ছেন। সঙ্গে বিজেপি ও হিন্দুত্বকে পরস্পর বিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছেন তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news