নীল রায়। ভাটপাড়ায় “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দেওয়া বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর তাঁর ক্ষেপে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর থেকেই ব্রাজ্জের হিন্দু ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কি “জয় শ্রীরাম” স্লোগানের বিরোধী? তৃণমূল নেতৃত্ব একথা আঁচ করতেই রবিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে সাফাই দিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পোস্টে বারবার বোঝাতে চাইলেন রাজনৈতিক কোনও স্লোগান নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। জয়হিন্দ, বন্দেমাতারম, ইনক্লাব জিন্দাবাদ, স্লোগানের কথা এই ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে “জয় শ্রীরাম”কে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান বলে মান্যতা দিতে চাননি মমতা। বদলে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের “জয় শ্রীরাম” স্লোগানকে ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির মিশেল বলেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সঙ্গে তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনীতির সঙ্গে এইভাবে ধর্মীয় স্লোগানের মিশেলে আখেরে ক্ষতি হতে পারে ভারত তথা বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচকরা অবশ্য রাজনীতিক বক্তৃতায় ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করার অভিযোগ তুলছেন তাঁর বিরুদ্ধেই। সমালোচকদের কথায়, যে কোনও রাজনৈতিক বক্তৃতার শেষ পর্বে মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম করে বন্দেমাতরম বা জয়হিন্দ বলার পাশাপাশি “ইনশাআল্লাহ” ও “খোদা হাফেজ”-এর মতো শব্দটি ব্যবহার করেন। যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে কথিত। মুসলিম ভোট টানতে যা ছিল তৃণমূল নেত্রীর বড় হাতিয়ার। সমালোচকদের আরও প্রশ্ন, “জয় শ্রীরাম” যদি শুধুমাত্র ধর্মীয় শ্লোগান হয়ে থাকে? তাহলে “ইনশাআল্লাহ” বা “খোদা হাফেজ” শব্দটি কি কোন ধর্মীয় চর্চার বাইরে? এই ফেসবুক পোস্টে নিজের “জয় শ্রীরাম” স্লোগান নিয়ে ক্ষেপে যাওয়া প্রসঙ্গে কোনও উত্তর দিতে চাননি মমতা। বরং বিজেপি নেতৃত্বের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন তিনি, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news