ওয়েব ডেস্ক:
ভোল কতটা বদল হবে, তাতে কতখানি লাভবান হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। কিন্তু লোকসভা ভোটের ভরাডুবি ভুলে, দলের ভিতরে-বাইরে হাজারটা ঝক্কি সামলে বেশ কিছুদিন হল প্রাণপনে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। জনসংযোগে তাঁর নয়া উদ্যোগ ‘দিদিকে বলো’ সে কথাই প্রমাণ করে। এইসঙ্গে নির্বাচনী কৌশলী ব্র্যান্ড মোদি মেকার প্রশান্ত কিশোর নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছেন বলেও মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। তাহলে পুরনো কৌশলেই নতুন করে দিদিকে ফেরাতে চাইছেন পিকে! ২০১৪ ছিল ব্র্যান্ড মোদি, ২০২১-এ ব্র্যান্ড দিদি। সব মিলিয়ে ঘাসফুলের দাদাদের দর আরও কমতে চলেছে!
সে প্রসঙ্গে আরও কিছু আলাপের আগে জানিয়ে রাখা ভালো, সোমবার দুপুরে নজরুল মঞ্চে এক সাংবাদিক বৈঠকে ‘দিদিকে বলো’র আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর মতে, তৃণমূলকে আধুনিক করার উদ্যোগ শুরু হল। উল্লেখ্য, এদিন একটি ওয়েবসাইট (www.didkebolo.com) ও সর্বসাধারণের জন্য একটি ফোন নম্বর (৯১৩৭০৯১৩৭০ ) প্রকাশ্যে আনেন তিনি। যেখানে রাজ্যের মানুষ ‘দিদি’কে নিজেদের অভাব, অভিযোগ, ভালো লাগা, মন্দ লাগা ‘বোলতে’ পারবে।
প্রসঙ্গত, এদিন ব্যতিক্রমী ভাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মঞ্চে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই। অর্থাৎ দিদি একা, দাদারা পাত্তা পাননি। সাধারণত এতটাও দেখা যায় না। এও ভোলবদলই। উপস্থিত সংবাদ মাধ্যম বন্ধুদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি আজ বেশ অচেনা ঠেকছিল। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের বন্ধন আরও জোরদার করতে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি। মমতা জানান, এইসঙ্গে জনসংযোগে তৎপর হতে আগামী ১০০ দিনে রাজ্যের প্রতিটি গ্রামে যাবেন তৃণমূল নেতারা। কীভাবে জনসংযোগে কাজ করবেন তাঁরা তাও বিস্তারিত জানান। পাখির চোখ যে বিধানসভা নির্বাচন তা মমতার কথাতেই পরিস্কার। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেন, এখনো ২০ মাস বাকি বিধানসভা নির্বাচনের। এখনই প্রচার নয়। তবে জনসংযোগ বাড়াবে দল। হোল টাইমার নিয়োগের জল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দেন। বলেন, ‘তৃণমূল গরিবদের দল। তাই আমাদের বিজেপি, সিপিএমের মতো হোল টাইমার রাখার সামর্থ নেই। দলীয় কর্মীরাই সব কাজ করবেন।’
মমতার একথা হয়তো ঠিক। ‘দিদি’ নিজে এবং তৃণমূলের বিশ্বস্ত কর্মীরাই এতদিন কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। কিন্তু, নেতা, মন্ত্রীদের কাজটা ঠিক কী হবে? দুনিয়ার অভাব-অভিযোগ যদি দিদিকে জানাতে হয়! ‘দিদিকে বলো’র ফোন নম্বর আর ওয়েবসাইট চলে আসার পর রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের দাদাদের যে চূড়ান্ত গুরুত্বহী হয়ে পড়বেন, তা আর বলে দিতে হয় না। এমনিতেই ‘সব আসনেই লড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’। মাঠঘাটে মানুষ আসে তাঁকে দেখতে, শুনতে। তৃণমূল সুপ্রিমোই প্রথম থেকে দলের অঘোষিত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডার ছিলেন। কিন্তু, এবার পিকের পরামর্শে সেই ব্র্যান্ডকেই করে তোলা হচ্ছে শেষ কথা। পিকের সোজা হিসেবে, যে ফর্মুলায় মোদীকে তিনি লার্জার দ্যান লাইফ ব্র্যান্ডে পরিণত করেছিলেন। সকলে বিশ্বাস করেছিল— সবার উপরে মোদি সত্য। ঠিক সেই ভাবে ব্র্যান্ড মমতা গড়ে বাজিমাত করতে চাইছেন।
অর্থাৎ, দিদির দল বটেই, বরং দিদিই দল। দাদারা সেখানে কর্মী মাত্র। অর্থাৎ, বড় দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী, নেতা আর সাধারণ টিএমসি কর্মীর মধ্যে কোনও পার্থক্য রইল না আর!
এতখানি ভোলবদল কি কাজে আসবে? উত্তর সময় ছাড়া কেউ দিতে পারবে না।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news