নীল রায়:
বিজেপি বিরোধী ২৩ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে শেষ পর্যন্ত ধর্মতলার ধারনা তুলে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাতে ধরনায় বসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চলে আসেন দিদির ধরনা মঞ্চে। এদিন দুপুরেই দেশের শীর্ষ আদালত সিবিআই-রাজীব কুমার মামলায় রায় দেয়। এদিন ধরনা মঞ্চে এসে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বিকেলে যখন ধরনা মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছেন লালু পুত্র তেজস্বী, তখন ধরনা মঞ্চের পাশের একটি অস্থায়ী কক্ষে বৈঠক করেন চন্দ্রবাবু নাইডু ও মমতা। সেখান থেকেই একের পর এক ফোনে যোগাযোগ করা হয় বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে। রাহুল গাঁধী ও মায়াবতীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ না করা গেলেও, তাঁদের দলের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় চন্দ্রবাবু ও মমতার। এছাড়াও আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী, ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুখ আব্দুল্লাহ সহ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা-চন্দ্রবাবু ।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সকলেই আন্দোলনের ক্ষেত্রে একমত পোষণ করলেও, মমতাকে তার ধারনা অবস্থান থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন কমবেশি সব রাজনৈতিক দল। দিদিকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় চন্দ্রবাবু নাইডুকে। শেষে স্থির হয় চন্দ্রবাবুর প্রস্তাবে সায় তাই তুলে নেওয়া হবে। হয়ও তাই। বৈঠক শেষে মঞ্চে উঠে দুই নেতা বক্তৃতার মাধ্যমে প্রথমে নরেন্দ্র মোদী সরকার ও তাদের সিবিআই নীতিকে কাঠগড়ায় তোলেন। চন্দ্রবাবু নাইডু মুখ্যমন্ত্রীকে ধরনা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধে ধরনা প্রত্যাহার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে গিয়ে বিরোধী দলগুলিকে যে মোদী সরকারকে ঘেরাও করবেন, তাও এদিন মঞ্চ থেকে ঘোষণা করে দেন যুদ্ধংদেহী মমতা। আগামী ১৩ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ধর্ণায় বসবেন তিনি। থাকবেন বিজেপি-বিরোধী দলের সমস্ত নেতারাই।
মমতা বলেন, “এই ধরনা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। ধরনা প্রত্যাহার করা হলেও বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news