Breaking News
Home / TRENDING / দ্বিধাবিভক্ত মহগঠবন্ধন, শঙ্কা অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টারে!

দ্বিধাবিভক্ত মহগঠবন্ধন, শঙ্কা অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টারে!

নীল রায়:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাগঠবন্ধন এখন প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রশ্নে দ্বিধা বিভক্ত। ১৯ জানুয়ারির সভাতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই একে একে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছেন মমতার ফেডারেল ফ্রন্টের নেতারা। ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন বলেছেন “তামিলনাড়ু রাহুল গাঁধীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চায়।” আবার ব্রিগেড সমাবেশে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেওয়া লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী বলেছেন “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিকল্প মঞ্চ হচ্ছে কংগ্রেস।” এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশের উদ্যোগের কী কলকাতার ময়দানেই গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটল? জাতীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একথা বলার সময় এখনও আসেনি। কারণ, স্ট্যালিন ও তেজস্বী যাদবের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সমাবেশে যোগদানকারী বিএসপি নেতা সতীশ মিশ্র বলেন “যাঁরা এমন কথা বলছেন তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে বলছেন। আমাদের নেত্রী যা বলেছেন, সেটাই আমাদের অবস্থান। কে কী বলল, তাতে আমাদের অবস্থান একটুও বদলাবে না।”

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশে বুয়া-বাবুয়া জোটের আগেই বিএসপি নেত্রী মায়াবতী ঘোষণা করেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী ঠিক হোক ভোটের পরেই।” একই মন্তব্য অখিলেশ যাদবেরও। তাই মমতা যে আঞ্চলিক দলগুলির জোট করে কেন্দ্রে ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের কথা বলছেন, সেই ফেডারেল ফ্রন্টের নেতাদের “নানা মুনির নানা মত”-এর মতোই শোনাচ্ছে। ব্রিগেড সমাবেশে প্রাক্তন বিজেপি নেতা অরুন শৌরি বলেছেন, “এখন আর কোনও বাদ বিচার রাখার সময় নেই। আঞ্চলিক স্তরে বিধানসভা ভোটে আমাকে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এই ভাবনা থেকে সরে এসে হাতে হাত মিলিয়ে মোদীকে হারাতে হবে।” রাজনৈতিক মহলের অবশ্য দাবি, শৌরি এমন কথা বলছেন কারণ, তিনি আর ভোট রাজনীতিতে নেই। কিন্তু প্রত্যেক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলেরই নিজস্ব সমীকরণ রয়েছে। কারও যেমন কংগ্রেসকে সমর্থন করলেই ফায়দা। তেমনই কারও আবার কেন্দ্রে কংগ্রেসের দাদাগিরি নাপসন্দ। যেমন মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিসগড়ের ভোটে জিতে রাহুল গাঁধী যেভাবে আঞ্চলিক দলগুলিকে উপেক্ষা করে সরকার গঠন করেছেন তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ মায়াবতী-অখিলেশ। একই পথের পথিক আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর নিজের পুর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেসের অধীনে থাকতে নারাজ। এমন রাজনৈতিক অঙ্ক যেমন আছে, তেমনই আরজেডির মতো দল আছে যারা কেন্দ্রে সরাসরি কংগ্রেসের সরকার চান।

এক সময় রাজীব গাঁধীর হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক দল ডিএমকের বিরুদ্ধে। সেই দলের নেতা এমকে স্ট্যালিন এখন রাজীব পুত্রকে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান। “সত্যি ভোট বড় বালাই।” কর্নাটকে জেডিএসে পিতা-পুত্রই নেতা। পিতা দেবেগৌড়াকে যদি ” দি অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার” বলা যায় যেমন ভুল হবে না, তেমনই পুত্র কুমারস্বামীকেও “দি অ্যাক্সিডেন্টাল চিফ মিনিস্টার” বলা যায়। দুজনেই কংগ্রেসের দৌলতে পদগুলিতে বসেছিলেন বা বসে আছেন। এখনও তাঁদের জোট কংগ্রেসের সঙ্গেই। পালা করে পিতা-পুত্র জুটি যেমন কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলছেন। পাছে লোকসভা ভোটের পর ফের “অ্যাক্সিডেন্টাল” সুযোগ এসে যায়!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *