Breaking News
Home / TRENDING / জগন্নাথ কাহিনী : ষষ্ঠ পর্ব

জগন্নাথ কাহিনী : ষষ্ঠ পর্ব

পার্থসারথি পাণ্ডাঃ

রাত গভীর হল। বিশ্বাবসুর সঙ্গে বিদ্যাপতির নীলমাধব দর্শনে যাবার সময় হল। বিশ্বাবসু তাঁর চোখ বেঁধে দিলেন। কিন্তু চতুর বিদ্যাপতি কোমরে গোপনে লুকিয়ে রাখলেন একটি থলেতে যথেষ্ট সরষে। থলেতে করলেন ছোট্ট একটি ফুটো। সেই ফুটো দিয়ে যাতে অল্প অল্প সরষে মাটিতে সেই ব্যবস্থাও হিসেব কষে করে ফেললেন।

নির্দিষ্ট সময়ে বেশ নিশ্চিন্ত হয়ে বিশ্বাবসু তাঁকে নিয়ে নীলমাধবের গোপন গুহার দিকে এগোতে লাগলেন। এবং তাঁর অলক্ষ্যে বিদ্যাপতির কোমর থেকে সরষের দানা পড়ে পড়ে যেতে লাগল সমস্ত পথ ধরে। এইভাবে অবশেষে তাঁরা গুহার ভেতরে এসে পৌঁছলেন। তখন বিশ্বাবসু তাঁর চোখ খুলে দিলেন। চোখ খুলতেই বিদ্যাপতি যেন স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। অন্ধকার গুহার মধ্যে এক দিব্য জ্যোতিময় গোলক। সেই জ্যোতির্ময় গোলকটিই শ্রীকৃষ্ণের নাভিপদ্ম, বিশ্বাবসুর নীলমাধব। সে এক অপূর্ব দর্শন। সেই দর্শনে বিদ্যাপতির চোখ দিয়ে ঝরতে লাগল ঈশ্বরপ্রাপ্তির অশ্রু। বিষ্ণুর স্তব করতে করতে তিনি সাষ্টাঙ্গে নমস্কার করতে লাগলেন বার বার। দেখলেন, বনের ফলমূল আর কাঁচা মাংস দিয়ে বিশ্বাবসুর পুজো। তখন তাঁর মনে ভক্তের তৃপ্তি, ত্যাগীর শান্তি।

আবার চোখ বন্ধ করে ফেরার পালা। বাড়ি ফিরতে সবচেয়ে খুশি হয় ললিতা। তার যেন খুশির অন্ত নেই। স্বামীর ইচ্ছে পূরণ করতে পেরেছে সে। দেখাতে পেরেছে সে দেবদুর্লভ নীলমাধব। যা সে নিজেও দেখেনি। এমন উপহার কজন দিতে পারে! সরল যুবতী জানলও না কোন সর্বনাশের পথ সে বন্ধ চোখেও চিনিয়ে দিল বিদ্যাপতিকে। চতুর বিদ্যাপতিকে দেখে সে সেই সর্বনাশের কিছুই আঁচ করতে পারল না। বিছানায় শুয়ে বিদ্যাপতির বুকে মাথা রেখে সে যখন ভবিষ্যতের সুখস্বপ্নে বিভোর, তখন বিদ্যাপতি ছকে নিচ্ছেন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা। স্বামীসুখে মগ্ন ললিতা বুকে মাথা রেখেও কিছুই বুঝল না।

ভোর রাতে এক অজানা আশঙ্কায় চমকে ঘুম ভেঙে গেল ললিতার। একি, বিদ্যাপতি তো বিছানায় নেই। তার বুকে মাথা রেখেই তো ঘুমিয়ে পড়েছিল সে, কিন্তু মানুষটা কখন উঠে গেল, সে টেরই পেলো না! যেন কালঘুমে ধরেছিল তাকে! মানুষটা গেল কোথায়? ঘরের বাইরে বেরোয়। না, সেখানেও নেই। অতিপাতি খোঁজে, না, কোত্থাও নেই! বাবাকে ডেকে তোলে, গুষ্টিশুদ্ধ সবাই জেগে ওঠে, খুঁজতে শুরু করে, কিন্তু বিদ্যাপতিকে পাওয়া যায় না। বিশ্বাবসুর কি জানি কি আশঙ্কা মনে জাগে, তিনি ছোটেন নীলমাধবের গুহায়। গিয়ে তাঁর যেন বুকের পাথর নামে। না, নীলমাধব তেমনই আছেন। তাহলে, বিদ্যাপতি কোথায় গেলেন?

এর পরের কাহিনী আগামী পর্বে।

Spread the love

Check Also

নিজের মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একটি ভারতীয় ভাষা সকলের শেখা উচিত : রাজনাথ

নিজস্ব প্রতিনিধি। মহাদেব শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক। দেশের প্রতিটি কোনায় তাঁর মন্দির এক এবং অখণ্ড ভারতের …

শোভনের পাল্টা ববিদাকে চাই হোডিং কলকাতায়

নিজস্ব প্রতিনিধি। শোভনের পাল্টা ববি ! শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে একটি হোডিং চোখে পড়ে। যেখানে …

পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় প্রিয়াঙ্কা গাঁধী ? জল্পনা কংগ্রেসে

নিজস্ব প্রতিনিধি। পশ্চিমবঙ্গ থেকেই কী রাজ্যসভায় যাবেন প্রিয়াঙ্কা গাঁধী ? তেমনি জল্পনা উস্কে দিয়ে গেলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *