পার্থসারথি পাণ্ডা:
নীলমাধবের খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনায় বিদ্যাপতি বেশ উৎসাহিত হলেন এবং বিশ্বাবসুর আশ্রয়ে বেশ গেঁড়ে বসলেন। একদিন মধ্যরাত্রে বিশ্বাবসু যখন গোপনে নীলমাধবের পুজো করতে বেরোলেন, তখন চুপিচুপি বিদ্যাপতি তার পিছু নিলেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে পথ না জানায় জঙ্গলের মধ্যে বিশ্বাবসুকে হারিয়ে ফেললেন। বুঝলেন এভাবে হবে না। অন্য কোন পন্থা চাই।
বিশ্বাবসুর মেয়ে ললিতা। যুবতী। বিদ্যাপতি এবার সেই ললিতাকে নিয়ে পড়লেন। প্রেমের যাবতীয় ছলাকলা প্রয়োগ করে দিনদুয়েকের মধ্যেই তাকে প্রেমের জালে এনে ফেললেন। শুধু প্রেম নয়, বিয়ের প্রস্তাবও পেড়ে ফেললেন। ললিতার অল্প বয়স, সে বেচারা প্রেমে যেন একেবারে গলে গেল! সব শুনে জাতিবর্ণ নিয়ে বিশ্বাবসু বাবা হিসেবে খানিক গাইগুঁই করলেও, একমাত্র মেয়ের জেদের কাছে ধোপে টিকল না। ফলে, বিয়েটা হয়ে গেল।
বাসর ঘরে বিদ্যাপতি ললিতাকে নিজের আংটি দিলেন, উল্টো উপহারে চাইলেন নীলমাধবকে একবার চোখের দেখা দেখতে। ললিতা তো জানেনা নীলমাধব কোথায়। জানালো বাবাকে বলে সে ব্যবস্থা করবে। কিন্তু বিশ্বাবসু কিছুতেই আর রাজি হন না। মেয়েরও দারুণ জেদ। শেষমেশ মেয়ের জেদের কাছে বাবাকে নত হতে হল। তবে, বিশ্বাবসু একটা শর্তে বিদ্যাপতিকে নীলমাধব দর্শন করাবেন, কিন্তু সমস্ত রাস্তা চোখ বেঁধে নিয়ে যাবেন, নিয়ে আসবেন। বেশ। বিদ্যাপতি বেশ ভাবনায় পড়ে গেলেন, নীলমাধবের দর্শন পাওয়া যাবে, কিন্তু রাস্তার হদিশ না পেলে হরণ করা যাবে কি করে? ভাবতে ভাবতে একটা ফিকির ঠিক চিড়িক মেরে উঠল মাথার ভেতর। আর তাতেই সূচনা হয়ে গেল বিশ্বাবসুর সর্বনাশের! সেই কাহিনী আগামীকাল, ষষ্ঠ পর্বে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news