চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
ধেয়ে আসছে ১৭ কিমি দীর্ঘ পঙ্গপালের (Locust) দল। আর এর জেরে সতর্কতা জারি হল একাধিক রাজ্যে। পশ্চিম ভারতের পর মধ্য ভারতে হানা দিয়েছে পঙ্গপালের দল। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, হাওয়ার গতিবেগ অনুসরণ করে পূর্ব ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে পারে পঙ্গপালের দল। ফলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পতঙ্গবিদদের। কারণ পঙ্গপালের প্রজননের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, আমফান (Amphan Cyclone Strom) পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে তার সবটাই রয়েছে।
এপ্রিলের প্রথমে পাকিস্তানের বালুচিস্তান পেরিয়ে রাজস্থানে ঢুকে পড়ে পঙ্গপালের দল। এ বছর রাজস্থানের মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের দরুন প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় পঙ্গপালের। তারপর তা সংখ্যা বাড়িয়ে জয়পুর শহরে ঢুকে পড়ে। জয়পুর থেকে পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে ঢুকে পড়ে পঙ্গপালের দল। বুধবার উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে ইতিমধ্যে দেখা মিলেছে এই পরিযায়ী পতঙ্গের। এ নিয়ে টুইটারে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন ঝাঁসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাহুল শ্রীবাস্তব। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পঙ্গপালের হাত থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য ডিজে (DJ) গাড়ির ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। কারণ ডিজে বক্সের তীব্র আওয়াজে পঙ্গপালের গতিপথ রোধ করা যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত ২৭ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় পঙ্গপালের হানা বলে জানাচ্ছেন পতঙ্গবিদরা। পতঙ্গবিদদের মতে, পঙ্গপাল ঝাঁকের বিস্তার এক বর্গ কিলোমিটার হলে তাতে প্রায় ৪ কোটি পঙ্গপাল থাকতে পারে। একটি পূর্ণাঙ্গ পঙ্গপাল প্রতিদিন ২ গ্রাম খাবার খায়। ফলে পঙ্গপালের দল একদিনে ৩৫ হাজার মানুষের খাবার খেয়ে নিতে পারে। সবুজ খাদ্যশস্য পঙ্গপালের সবচেয়ে পছন্দের। তাই যতক্ষন না পর্যন্ত খাদ্য শস্যের সবটা শুষে নেয়, ততক্ষণ তারা ওই এলাকায় বিরাজ করে। ফলে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে খাদ্য শস্য। যা করোনা পরিস্থিতিতে খুবই চিন্তার বিষয় সরকারের কাছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ (United Nation) ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে ভারতকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানাচ্ছে, পঙ্গপালের হানায় ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালে আফ্রিকায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news