Breaking News
Home / TRENDING / বাম-কংগ্রেসের ডাকা বনধে মমতার সমর্থন ! উভয়েরই শাঁখের করাত

বাম-কংগ্রেসের ডাকা বনধে মমতার সমর্থন ! উভয়েরই শাঁখের করাত

সূর্য সরকার ও নীল রায়।

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস যৌথভাবে ৮ জানুয়ারি বনধের ডাক দিয়েছে। সেই বনধ কী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন করবেন ? নাকি নিজের সরকারের ঘোষিত অবস্থানে অনড় থেকে প্রশাসনকে সচল রাখবেন ? ফলে বাম কংগ্রেসের যৌথ বনধ নিয়ে সাবধানী মমতা। পরিস্থিতি তাঁর জন্য শাঁখের করাতে মতো। তৃণমূল সাম্প্রতিক অতীতে বনধের বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। বাংলায় তারা বনধ হতে দেয় না। কিন্তু ৮ জানুয়ারি নরেন্দ্র মোদীর সিএএ ও এনআরসি বিরোধিতা করে ভারত বনধের ডাক দেওয়া নিয়ে তৃণমূল (TMC) বিপাকে পড়েছে। কারণ বহু বাম দল ও কংগ্রেস এই বনধ ডেকেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণ সহ এনআরসি বিরোধিতা এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই বনধে। এর আগে যতবার বনধ হয়েছে, তৃণমূল সরকার বনধ বিরোধী অবস্থানে অনড় থেকেছেন মমতা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি বিরোধী তৃণমূল এই বনধের সরাসরি বিরোধিতা করলে ভুল বার্তা যাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের যৌথ মিছিলের দিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র (Somen Mitra) ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র (Suryakanta Mishra) এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ করেন। তাদের বক্তব্য, মুখে বিজেপি (BJP) বিরোধিতা করলেও, আসলে গোপনে আঁতাত করে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। প্রমাণস্বরূপ, রাজীব কুমারের জন্য অমিত শাহের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

তাই বনধ সমর্থন না করলে বিজেপি বিরোধী অবস্থান থেকে মমতা সরে এসেছেন বলে প্রচার করবেন বাম কংগ্রেসের নেতারা। তাই নবান্ন সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কী নীতি নেয় সেটাও দেখার বিষয়। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন এবার বনধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করার পরিবেশ নেই। এমনটা করলে বাম ও কং সরাসরি অভিযোগ করলে বলবে তৃণমূলের বিজেপির প্রতি নরম মনোভাবের। সংখ্যালঘুরাও ভুল বুঝতে পারে, কমতে পারে মুসলিম ভোট। ফলে বনধ নিয়ে অবস্থান ঠিক করতে গভীরভাবে ভাবছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কং ও বাম (Left-Congress) নেতারা চান তৃণমূল বনধের বিরোধিতা করুক। তাহলে তাঁরা কিছুটা রাজনৈতিক সুবিধা পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপিও (BJP) তাকিয়ে তৃণমূলের দিকে। কারণ তৃণমূল বনধ সমর্থন করলে বাংলায় সর্বাত্মক বনধ নিশ্চিত।সেই জায়গা থেকে অনেকেই মনে করছেন সরাসরি বন্ধের বিরোধিতা না করলেও নীতিগত সমর্থন দিতে পারেন মমতা। এবং নীতিগত সমর্থনের সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন বনধের ক্ষেত্রে যে ধরনের কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি সেই জায়গা থেকে কিছুটা হলেও সরে আসতে পারেন ‘প্রশাসক’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং বনধের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উপরে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে পরোক্ষে কিছুটা সুবিধা করে দিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে সরকারি অফিস খুলে রাখা হবে অবশ্যই, কিন্তু কড়া শাস্তির অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে প্রশাসন। যাতে বনধের সমর্থনও না করা হয়, আবার বিরোধিতার বার্তাও না যায় তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এক তৃণমূল নেতার কথায়, “আমরা দিদিকে যতটা চিনি, তাতে বলতে পারি বনধের বিরোধিতা তিনি করবেনই।” তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রায় সময় একটি কথা ঘনিষ্ঠ মহলে বলেন যে, “মমতা কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা তিনি জানেন, আর ঈশ্বর।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *