নিজস্ব প্রতিনিধি।
রাজ্যসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের জোট প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের জয় নিশ্চিত হতেই অক্সিজেন পেয়েছে জোটপন্থী নেতারা। সোমবার সন্ধ্যায় জোট প্রার্থী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি জারি করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র (Somen Mitra)। সেই বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “কংগ্রেস – বামফ্রন্টের রাজ্যসভা নির্বাচনের যৌথ প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য নির্বাচিত হওয়াতে আমাদের বাম -কংগ্রেস জোটের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হল। সংসদের অভ্যন্তরেও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র হবে।” প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে লড়াই করার পর আর একসঙ্গে ভোট রাজনীতির পথ চলেনি বাম-কংগ্রেস দুপক্ষই। ফলস্বরূপ বিকল্প বিরোধী শক্তি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে উত্থান হয়েছে বিজেপির।
গত লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ লোকসভার প্রার্থীপদের টানাটানিতে ভেস্তে গিয়েছিল জোট প্রক্রিয়া। স্বাভাবিকভাবেই এবার রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে দুপক্ষই ছিল সতর্ক। সিপিএম রাজ্য নেতৃত্ব সীতারাম ইয়েচুরিকে (Sitaraman Yechuri) প্রার্থী চেয়ে দরবার করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। সীতারাম না হলে মহঃ সেলিম, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তীর নাম দিল্লিতে বিকল্প হিসেবে পাঠিয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। এ যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের দাবি ছিল একতরফাভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করে, প্রথমে এআইসিসির সম্মতি নিক সিপিএম। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি মতো সিপিএমের এক কেন্দ্রীয় নেতা সঙ্গে কথা হয় এআইসিসির শীর্ষ নেতৃত্বের। খুলে যায় জোটের দরজা।
এরই মাঝে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গাঁধীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লেখেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। সেখানে তিনি জোটপ্রার্থী হিসেবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikashranjan Bhattacharya) সমর্থনে কংগ্রেসের সমর্থন চান তিনি। স্বপক্ষে যুক্তি দেন, গত ৯ বছরের শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আদালতে যিনি সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার ফেলেছেন তিনি বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর মতো একজন দক্ষ আইনজীবী তথা রাজনীতিককে পেলে উপকৃত হবে বাম-কংগ্রেস দুপক্ষই। এক্ষেত্রে মান্নান সাহেবকে বিমুখ করেননি তাঁর দলনেত্রী। এআইসিসির (AICC) পক্ষ থেকে সিপিএমের (CPM) কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়ে দেওয়া হয় ইয়েচুরির বদলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রার্থী হলে তাঁদের সমর্থন দিতে আপত্তি নেই।
এমন সমস্ত সমীকরণ মেনে বাম-কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হন বিকাশ। জোটবার্তা স্পষ্ট করতে বাম ও কংগ্রেস যৌথভাবে মনোনয়ন দাখিল করেন তাঁর। তৃণমূল সমর্থিত নির্দল প্রার্থী দীনেশ বাজাজ রাজ্যসভা ভোটে মনোনয়ন দাখিল করায় চিন্তার মেঘ দেখা দিয়েছিল দুই শিবিরে। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যসভার নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার যখন দীনেশ বাজাজের মনোনয়ন খারিজ করে দেন। তখনই মুখে চওড়া হাসি ফোটে কংগ্রেস-সিপিএম নেতাদের। জয় নিশ্চিত হতেই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এই জয়ের পর আমাদের জয় শুরু হল। বাম কংগ্রেস জোট একসঙ্গে এবার জয়ের পথে চলবে।” এমন বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, বহুদিন পর জয়ের স্বাদ পেয়ে আর কংগ্রেসের হাত ছাড়তে নারাজ বঙ্গ কমরেডরা। কারণ, লোকসভা ভোটে একা লড়াই করে শূন্য হাতে এসেছিল সিপিএমের। জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ফসল হিসেবে রাজ্যসভায় নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে সমর্থ হল বঙ্গের সিপিএম।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news