Breaking News
Home / TRENDING / মা লক্ষ্মীর আবাহন কাহিনি

মা লক্ষ্মীর আবাহন কাহিনি

পার্থসারথি পাণ্ডা :

মা লক্ষ্মী আসছেন। আসছেন হিমমাখা ধানের গোছা হাতে নিয়ে, সদ্য ফোটা লাল পদ্মের সবুজ মৃণাল হাতে নিয়ে, এক হাতে বরাভয় আর এক হাতে সৌভাগ্য আর ঐশ্বর্যের ডালি নিয়ে। দেবী চতুর্ভুজা।
এবার বিজয়া দশমীর দিন পড়েছিল ‘ডাক’। ‘ডাক’ কথার অর্থ, ‘আমন্ত্রণ’। বাঁকুড়ার লোকসংস্কৃতিতে এদিন গেরস্তের গৃহলক্ষ্মী ধানের ক্ষেতে ক্ষেতে গিয়ে ধান্যলক্ষ্মীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন গেরস্তের ঘরে আসার জন্য। লক্ষণীয় বিষয় হল, প্রতিটি গ্রামেই কিন্তু এই গৃহলক্ষ্মী সাজেন একজন পুরুষ। এদিন তিনি এয়োতি নারীর মতো শাড়ি পরেন, কানে-নাকে পরেন সোনার গয়না, হাতে শাঁখাপলাবালা আর কপালে দেন সিঁদুর। ক্ষেতে গেরস্তের হয়ে শষ্যের দেবীকে তিনি যেমন আমন্ত্রণ জানান, তেমনি গেরস্তের জন্য নিয়ে আসেন দেবীর আদেশ। সেই আদেশ নিয়ে তিনি ক্ষেত থেকে সোজা এসে দাঁড়ান গেরস্তের উঠনে। ভেতর ঘরের দিকে হরতুকি ছুঁড়ে জানান দেন তাঁর আগমনের। ভেতর থেকে বাড়ির গিন্নি দেবীর আদেশ জানতে চান, এর একটি গতে বাঁধা প্রশ্নোত্তর রয়েছে–
প্রঃ মা লক্ষ্মীমা কি বললেন?
উঃ খামারখোলা চাঁছতে বললেন।
প্রঃ মা লক্ষ্মীমা কি বললেন?
উঃ গোবরছড়া দিতে বললেন।
প্রঃ মা লক্ষ্মীমা কি বললেন?
উঃ সাকবড় পাকাতে বললেন।
এই প্রশ্নোত্তরের অর্থ হল, দেবী আদেশ দিয়েছেন যে, মাঠের ধান ঘরে আনতে হলে আগে গেরস্তকে খামার (যেখানে ধান এনে রাখা হয়, ঝাড়াই করা হয়) থেকে বর্ষায় গজিয়ে ওঠা ঘাস ও আগাছা পরিস্কার করতে হবে। তারপর গোবর জল দিয়ে ন্যাতা দিতে হবে। দেবীর বরে গেরস্তের খামার উপচে পড়বে নতুন ধানে। সেই ধান মজুত করে রাখতে তাঁকে মরাই (ধানের গোলা) বাঁধতে হবে। মরাই বাঁধার জন্য এককালে লাগত বিচুলির মোটা দড়ি। এই দড়ি পেঁচানো হত মরাইয়ের সারা গায়ে। এই দড়ির নামই ছিল ‘সাকবড়’।
বাঁকুড়ার লোকসংস্কৃতিতে এই যে ‘ডাক’ পরব, এর মধ্যেই পরিচয় পাওয়া যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে কৃষকের আত্মীয়তা স্থাপনের ঘনিষ্ঠ রীতিটির। দেবীর আদেশমূলক যে প্রশ্নোত্তরপর্ব তার মধ্যে ধরা আছে দীর্ঘদিনের কৃষি-ঐইতিহ্যের ধারা, যা বিশিষ্ট আচাররূপে বংশপরম্পরায় এগিয়ে চলেছে। এটিও এ-অঞ্চলের লোকইতিহাসের আকর উপাদান। আজ বাঁকুড়ার গ্রামে গ্রামে ধানের গোলা বা মরাই বাঁধার চল প্রায় নেই বললেই চলে, তাই দেবী অাসার অাগে খামার পরিস্কার করা হলেও ‘সাকবড়’ পাকানোর উদ্যোগ এখন আর নেই। তবুও লোক-ঐতিহ্যের হাত ধরে ফি বছর অনুষ্ঠিত হয় ‘ডাক’ পরব, থাকে লক্ষ্মীমায়ের আবাহনের জন্য বছরভরের অপেক্ষা।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *