নীল রায়:
পুর্ব মেদিনীপুর জেলা বলে নয়, গোটা রাজ্যে প্রার্থী খুঁজে পেতে নাজেহাল অবস্থা বছর ৭৫-এর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর। বাংলায় বিরোধী হিসেবে বিজেপির উত্থানের মাঝেই অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে তাকে দুর্গ সামলাতে দায়িত্ব দিয়েছেন রাহুল গাঁধী। কিন্তু বছর ছয়েক তৃণমুলে কাটিয়ে কংগ্রেসের ঘরে ফেরা সোমেন মিত্র বাস্তব পরিস্থিতি দেখে কিছুটা হলেও হকচকিয়ে গিয়েছেন বলে খবর। সোমেন প্রবীণ রাজনীতিক, ভালোই জানেন শাসকদল তৃণমূলের নেতাদের মোকাবিলা করেই দল পরিচালনা করতে হবে। কোনও জেলায় তাঁর প্রতিপক্ষ অনুব্রত মন্ডল, কোনও জেলায় আবার রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পুর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতির নাম শিশির অধিকারী হলেও, সংগঠনের দেখভাল করেন মন্ত্রী, পুত্র শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর মতো প্রভাবশালী নেতাকে টক্কর দেওয়ার মতো বিকল্প নেতা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির হাতে নেই।
এদিকে সম্প্রতি বিজেপির সঙ্গত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগদানের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বহিষ্কৃত সিপিএম নেতা লক্ষণ শেঠ। এক্ষেত্রে কংগ্রেসের একাংশ লক্ষ্মণ শেঠকে দলে নিতে নারাজ। নন্দীগ্রাম গণহত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এখনও তার বিরুদ্ধে। যেভাবে আস্ফালন দেখিয়ে লক্ষণ শেঠ নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়তেন, তা এখনও বাংলার রাজনীতিতে তাজা আলোচনার বিষয় বলেই মনে করছেন বিধান ভবনের একাংশ। সবকিছু ভুলে শুভেন্দু অধিকারীকে জবাব দিতে লক্ষণ শেঠকেই দলে চাইছেন প্রদেশ সভাপতি সোমেন। এদিকে সদ্য কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুস সাত্তার। তার বিরুদ্ধে লক্ষণ শেঠের মতো গণহত্যার অভিযোগ না থাকায় যোগদানে সমস্যা হয়নি। কিন্তু লক্ষণ শেঠের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা তীব্র। যেহেতু পুর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রতিপক্ষের নাম শুভেন্দু অধিকারী। তাই তার মোকাবিলা করার জন্যই লক্ষণ শেঠকে দলে নেওয়ার বিষয়ে প্রায় মনোস্থির করে ফেলেছেন সোমেন মিত্র। কথা বলেছেন এআইসিসি নেতৃত্বের সঙ্গেও। লক্ষণের যোগদানের বিষয়ে সোমেনের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছি না। প্রবল কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সৈনিক খুঁজছি।”
সোমেন মিত্রর এমন মন্তব্যের পিছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে। লক্ষ্মণ শেঠের পুরনো ভিতের ওপরেই কংগ্রেসের ইমারত গড়তে চাইছেন তিনি। কিন্তু পুর্ব মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি আনোয়ার আলি লক্ষণ শেঠের যোগদানের ব্যাপারে নিজের আপত্তির কথা দলকে জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে সোমেনপন্থীদের অভিযোগ, পুর্ব মেদিনীপুর জেলার সংগঠন দেখার বদলে কলকাতা হাইকোর্টে নিজের প্র্যাকটিসে বেশি মনোনীবেশ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার সিপিএমের সঙ্গে জোটের পক্ষপাতি হলেও লক্ষণ শেঠকে দলে নিতে চান না বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন “যারা লক্ষণ শেঠের মতো লোকেদের দলে নেবেন তাঁদের দলের অন্দরেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। এইসব কুখ্যাত নেতাদের দলে নিলে সারা বাংলায় কংগ্রেসকে নেতিবাচক ফল ভুগতে হবে।” বিরোধী দলনেতা ও কর্মীমহলে ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকলেও লক্ষণ শেঠের কংগ্রেসে যোগদান এখন কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে সোমেন শিবির।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news