প্রসেনজিৎ ধর:
কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর, দেশ জুড়ে হাই এলার্ট জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর মধ্যেই স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে ভয় দেখানোর অভিযোগ। ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) তদন্তকারী আধিকারিক পরিচয় দিয়ে খেলনা পিস্তল নিয়ে স্কুলে ঢুকে ভয় দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার এক স্কুল শিক্ষক।
কোন্নগরের ওই ইংরেজিমাধ্যম স্কুল প্রথমবার দিন কুড়ি আগে হঠাৎই হাজির হন নৈটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক অরিজিৎ মেটে। কোমরে তাঁর পিস্তল গোঁজা। স্কুলে ঢুকে প্রিন্সিপালের ঘরে গিয়ে জানান তিনি ডিআরডিও থেকে তদন্তে এসেছেন। স্কুলের চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ডিফেন্সের তথ্য পাচারের। কম্পিউটার হ্যাক করে দেশের প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সার্চ করা হয়েছে, যা ইন্টারনেটে ধরা পড়েছে। সেই কারণে চারজনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনে শুট অ্যাট সাইটেরও অর্ডার দিয়েছে। এই কথা শুনে তো থরহরি কম্প অবস্থা স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।
ডিআরডিও অফিসার পরিচয় দেওয়া অরিজিৎ ওই স্কুলে কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন। স্কুলের প্রত্যেকেই তার পরিচিত, এমনকি ওই স্কুলে তার স্ত্রীও ইংরেজি পড়ান। তাই কীভাবে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করেন শিক্ষকরা। উত্তরে অরিজিৎ জানায়, স্কুলের কর্মী নাসিম যে কম্পিউটার চালায় সেই এই কাজ করেছে। তাই এখনই নাসিমকে স্কুল থেকে সরিয়ে দিতে হবে।যাদের নামে ওয়ারেন্ট আছে তাদের মোবাইলের সিম বদল করতে হবে। কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বদলে ফেলতে হবে। এই তিন শর্তই মেনে নেয় স্কুল। জানা গিয়েছে, এরপরও বেশ কয়েকদিন স্কুলে আসেন অরিজিৎ। ফোন করে শিক্ষিকাদের দেখা করতে বলা থেকে নানা ভাবে চলতে থাকে জেরা। ভয়ে দুই শিক্ষিকা চাকরি ছেড়ে দেন। অবশেষে পুলিশকে পুরো ঘটনা জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার আবার স্কুলে আসেন অরিজিৎ। পুলিশকে খবর দেয় স্কুল। আইসি উত্তরপাড়া নিজে স্কুলে যান। ডিআরডিও অফিসারের পরিচয় পত্র দেখতে চান। স্মার্ট অরিজিৎ-এর ব্যবহারে প্রথমে ভিরমি খায় দুঁদে পুলিশ অফিসারও। ঘন্টা দুয়েক নানাভাবে জেরা করার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় অরিজিৎ আসলে নকল ডিআরডিও অফিসার। তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, অঙ্কে এমএসসি করা অরিজিৎ আসলে নৈটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক।হিন্দমোটরের রবীন্দ্রনগরে তার বাড়ি। বাড়িতেও সে ডিআরডিও অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখিয়ে বলেছিল সে নাকি ডিআরডিওতে চাকরি পেয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, যে পিস্তল নিয়ে সে স্কুলে গিয়ে ভয় দেখিয়েছিল সেটা তাঁর মেয়ের খেলনা পিস্তল। পুলিশ জানতে পারে ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কর্মী নাসিমের সঙ্গে তার কোনও সমস্যা ছিল। তাই ডিফেন্সের অফিসার সেজে ভয় দেখিয়েছে সে। যার জেরেই আপাতত শ্রীঘরে যেতে হয়েছে অরিজিৎ মেটেকে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news