চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে কলকাতা বন্দরের (Kolkata Port) নামকরণ করার সিদ্ধান্তে সীলমোহর দিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার এ বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে তারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগের কথা মাথায় রেখেই চলতি বছর ১২ জানুয়ারি নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা বন্দরের ১৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তার পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের বৈঠকে ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাব পাশ হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র (Somen Mitra)। তাঁর দাবি ছিল, এই নাম বদলের সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই মেনে নেবেন না বাংলার মানুষ। সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, নামবদলের ফলক লাগানো হলে তা কংগ্রেসের ছাত্র যুবরা তা খুলে নেবে।
আবার বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট করে তিনি জানিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) নামে কলকাতা বন্দরের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রের বিরোধিতা করবেন না তিনি। তবে নাগরিক সংশোধনী আইনের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ আচরণ নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সংসদ সদস্য। অভিষেকের টুইট নিয়ে আবার সরব হয়েছিল সিপিএম। বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন, শ্যামা প্রসাদের নামে কলকাতা বন্দরের নাম করনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সাংসদ ভাইপো। এতে স্পষ্ট হয়েছে তৃণমূল বিজেপির যোগসাজশ। এরপরে আবার ও তৃণমূল নেতারা বিবৃতি দিয়ে দলের অস্বস্তি দূর করেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির (BJP) যুক্তি, সাধারণ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের নামকরণ সংশ্লিষ্ট শহরের নামে হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে আগেও জাতীয় নেতাদের নামে অনেক বন্দর বা বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে। যেমন, মুম্বই বন্দরের নাম জওহরলাল নেহরুর নামে, তুতিকোরিন বন্দরের নাম ভি ও চিদম্বরানারের নামে, এন্নোরের নাম কামরাজ ও কান্ডলা বন্দরের নাম দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত হয়েছে। তাই শ্যামাপ্রসাদের নামে কলকাতা বন্দরের নামকরণ করে কোন ভুল করেননি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। বিষয়টিকে নিয়ে অযথাই রাজনীতি করছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস ও রাজ্যের বাম মনস্ক দলগুলি।
সেই সময় নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কিছুই বলেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নামকরণের সিদ্ধান্তে সীলমোহর দেওয়ার পরে তিনি বলেছেন, “তারা কী অ্যামেন্ড করেছে, সেটা আমাদের কাছে আসেনি এখনও। আগে আসুক, দেখি। তার আগে মন্তব্য করতে চাই না। তবে কলকাতা বন্দরের নাম পরিবর্তন না হলেই ভাল হত।” নামকরণের বিষয়টিকে নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির। কারণ, এতদিন নিজের নামবদল ও নামকরণের রাজনীতিতে একচেটিয়া প্রাধান্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেস বা স্পষ্ট করে বলা ভালো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই মৌরসী পাট্টায় আঘাত করে আপাতত কার্যক্ষেত্রে কলকাতা বন্দরের নাম বদলের অপেক্ষায় বিজেপি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news