চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
শীর্ষ মাওবাদী নেতা! ছয় রাজ্যের ত্রাস। মাথার দাম এক কোটি টাকা। অবশেষে মাওবাদীদের অন্যতম সেই শীর্ষ নেতা তথা পলিটব্যুরো সদস্য কিষানদাকে গ্রেপ্তার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিস। এই জঙ্গি নেতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়, তিনি খাস কলকাতার বিজয়গড়ের বাসিন্দা। আসল নাম প্রশান্ত বসু। ছদ্মনাম প্রচুর, কিষানদা, নির্ভয়, কাজল, মহেশ ইত্যাদি ইত্যাদি। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্র এই ছয় রাজ্যেই তিনি ছিলেন মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায়।
শুক্রবার এই প্রবীণ মাওবাদী নেতার সঙ্গে স্ত্রী শীলা মারান্ডি ও আরও তিনজন গ্রেফতার হন। শীলাদেবীও মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা। ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা জেলার কান্দ্রা থানা এলাকায় নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ে যান তাঁরা। বাকি তিন যুবক এই মাওবাদী নেতারই দেহরক্ষী। ওইদিন দুপুর থেকেই কিষানদার গ্রেপ্তারির ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায় কিষানদা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ভাবে ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে।
মাওবাদী দলের এক সূত্র জানাচ্ছে, ২০০৪ সালে জনযুদ্ধ, এমসিসি মিলিয়ে সিপিআই (মাওবাদী) দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এমসিসির নেতা প্রশান্ত বসুর।সিপিআই (মাওবাদী) দল গঠনের পর ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর সম্পাদক হিসেবে বিহার, ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠন গড়ে তোলার কৃতিত্ব এই প্রবীণ নেতার। ২০০৪ সাল থেকে কাগজে কলমে মাওবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক গণপতি। তারপরও কিন্তু ব-কলমে পার্টির নীতি নির্ধারণের সবটাই প্রায় নির্ভর করত কিষানদার উপর। এমনকী ২০১৯ সালে গণপতি সরে দাঁড়ানোর পর বাসবরাজ মাওবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক হলেও পার্টির নীতি, সামরিক কৌশল, লেভি বা তোলা আদায়ের ক্ষেত্রে কিষানদাই ছিলেন শেষ কথা। সূত্রের খবর, বর্তমান মাওবাদীদের পশ্চিমবঙ্গের কমিটিতেও নাকি কিষানদার অনুগামীই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news