Breaking News
Home / TRENDING / ‘দিদি’র ভরসা কেষ্টতে, ভোটের মুখে ক্ষোভ বাড়ছে জেলা তৃণমূলে!

‘দিদি’র ভরসা কেষ্টতে, ভোটের মুখে ক্ষোভ বাড়ছে জেলা তৃণমূলে!

নীল রায়:

বিতর্কিত নেতা তথা বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু দিন। সেই নিয়োগের একমাস কাটতে না কাটতেই নদীয়া জেলা তৃণমূলের অন্দরে পুঞ্জিভূত হয়েছে ক্ষোভ। গত ৯ জানুয়ারি নদীয়ার প্রশাসনিক সভা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তলব করা হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘরোয়া বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে নিয়ে নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় কেষ্টর হাতে।‌ বীরভূমের রাজনীতিতে কখনও “চড়াম চড়াম ঢাক” বাজিয়ে, কখনো জমি উর্বর করতে “পাচন” দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে “বিখ্যাত” হয়েছেন দিদির আস্থাভাজন কেষ্ট। তাই এবার বীরভূমের কেষ্টকেই নদীয়ার সংগঠনের হাল ধরতে বলেছেন দিদি। দলনেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত মন থেকে মেনে নিতে পারেননি নদীয়া জেলা তৃণমূলের নেতারা। মুখে না বললেও ভেতরে বিষয়টি দলের অনেকেরই পছন্দ হয়নি বলে সূত্রের খবর।

সম্প্রতি এক ঘরোয়া বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডলের কথায় চরম অপমানিত হয়েছেন নদীয়া জেলা থেকে নির্বাচিত চারবারের এক বর্ষীয়ান বিধায়ক। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় এসে দলের বর্ষিয়ান সতীর্থদের নিজের দুঃখের কথা বলেন বিধায়ক। সূত্রের খবর ওই বিধায়ক তার সতীর্থদের জানিয়েছেন, অনুব্রত তাঁকে যেভাবে অপমান করেছেন, সেভাবে দিদির কাছেও কোনোদিন বকা শুনতে হয়নি তাকে। নেত্রীর চাপিয়ে দেওয়া কেষ্টকে কার্যত মুখ বুজে সহ্য করছেন নদীয়া জেলার নেতারা। অনুব্রত মণ্ডলকে সংগঠনের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে নদীয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরী শঙ্কর দত্ত সহ অন্য নেতারা বলছেন, “অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতা দায়িত্ব পাওয়ায় নদীয়া জেলায় দল শক্তিশালী হল।” কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ নদীয়া জেলার এক যুব নেতার প্রশ্ন, “আমরা কি এতদিন রাজনীতি করিনি? অনুব্রত মন্ডলের কাছে নদীয়া জেলায় রাজনীতি করা শিখতে হবে?” তার আরও সংযোজন, “সিপিএমের সঙ্গে লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের গঠনের পর থেকেই জেলা নেতারা লোকসভায় ভালো ফল করে দেখিয়েছেন। ২০০৯ সালে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট দুটি লোকসভা আসনেই জিতে ছিলাম আমরা। ২০১৪ মোদী হওয়াতেও আমাদের দুটি লোকসভা আসনে জোড়া ফুল ফুটেছিল। এবার কী এমন হল যে অনুব্রত মণ্ডলকে ডেকে এনে আমাদেরকে ভোট রাজনীতি শেখানো হচ্ছে?”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে কৃষ্ণনগরে অভিনেতা তাপস পাল ও রানাঘাটে ড. সুচারু রঞ্জন হালদারকে প্রার্থী করা হয়েছিল তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব সঙ্গে আলোচনা না করেই। দুটি ক্ষেত্রেই জয় পেয়েছিল মমতার দল। দুই সংসদ সদস্যই পরবর্তী পর্যায়ে জেলার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখেননি। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে সুচারু হালদারকে টিকিট না দেওয়া হলেও, কৃষ্ণনগরে আবারও তাপস পালের উপর আস্থা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেবার রানাঘাট থেকে জয় পেয়েছিলেন ডঃ তাপস মন্ডল, কৃষ্ণনগরে জয়ী হন তাপস পাল। এক্ষেত্রেও জেলা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাংসদদের থেকে তেমন সহযোগিতা পাননি বলেই খবর। এখন আবার তার সঙ্গে “গোদের উপর বিষফোঁড়া”র মতো যুক্ত হয়েছেন পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল। যিনি নদীয়া জেলার নেতাদের মতামত বা পরামর্শ বাদ দিয়ে নিজের মতো করেই লোকসভা ভোটের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত নদীয়া জেলার ক্ষেত্রে মতুয়া ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর বলে জেনে এসেছে ভোট বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী বনগাঁর ঠাকুরনগরের যে জনসভা করে গিয়েছেন তাতে যোগ দিয়েছিলেন নদীয়া জেলার প্রচুর মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যের মতুয়া ভোটে যে গেরুয়া প্রভাব কাজ করতে শুরু করেছে, অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনা মতোই নদীয়া জেলাতে মতুয়া ভোটের আধিক্য। পাশাপাশি, নদীয়া জেলা সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যাও রয়েছে, যা পদ্ম শিবিরের পক্ষে যাওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। তাই আর কালবিলম্ব না করে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে দুটি আসন নিশ্চিত করতে চেয়েছেন মমতা। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের ফলে মোটেই খুশি নয় নদীয়া জেলা তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। দলের ভেতরের এই অস্বস্তি নদীয়া জেলায় লোকসভা ভোটের ফলাফলে পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ‌

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *