পার্থসারথি পাণ্ডা:
আজ থেকে আগামী তিন দিন সমস্ত শাক্তপীঠ বন্ধ থাকবে। কারণ, দেবী রজস্বলা হয়েছেন। নিত্যপুজো তবুও অবশ্য হবে, কিন্তু পূজারী দেবীর দিকে চাইবেন না, ফুলও দেবেন না। আসলে, শুরু হয়েছে অম্বুবাচীর কাল। এই কাল স্থায়ী হবে মাত্র তিনদিন। অম্বুবাচী প্রবৃত্তিতে শুরু, নিবৃত্তিতে শেষ। এই তিনদিন পৃথিবীও ঋতুমতী হন। বছরে একবার।
সেই আদিম যুগে সংস্কৃতি ভাবনার সূচনা থেকে পৃথিবীকে আমরা মাতৃরূপে কল্পনা করেছি। নারীরূপে কল্পনা করেছি। তাই তার ঋতুকালের কথাও ভেবেছি। অম্বুবাচী পর্বের জন্মই হয়েছে এই ভাবনা থেকে। আদিম যুগ থেকেই ঋতুমতী নারীকে আমরা অশুচিজ্ঞানে দূরে সরিয়ে রেখেছি, কোন শুভকাজে তাকে অংশ নিতে দিইনি। পৃথিবীও সেই অশুচি ভাবনা থেকে ছাড় পাননি। তাই এই তিনটে দিন মাটিতে চাষের কাজ করা হয় না। আগে বেশিরভাগ মানুষই মাটিতে উনুন কেটে রান্না করতেন, কিন্তু অশুচি পৃথিবীর গায়ের ছোঁয়ায় রান্না করলে সেও হয় অশুদ্ধ। তাই এই তিনটি দিনেই অরন্ধনের ঐতিহ্য। শুধুই ফলাহারের দিন।
আগে মাতৃরূপে আমরা কল্পনা করেছি প্রকৃতিকে, পৃথিবীকে। তারপর এসেছে দেবী ভাবনা। দেবীরা মা, নারী। অম্বুবাচী তাঁদেরও ঋতুর কাল। তাই এ-সময় তাঁদের পুজো হয়না, মন্দির বন্ধ থাকে। পুরুষের কাছে ভক্তি পেয়ে, মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েও দেবীমা পুরুষের অশুচিভাবনা থেকে মুক্তি পান না।
কালের স্রোতে কাল চলে যায়। সেই স্রোতের ধারায় পুরুষতান্ত্রিক ভাবনাজাত নারীকে দূরে সরিয়ে রাখার ঐতিহ্য আজ নিছক ধরণীমায়ের বিশ্রাম আর ফলাহারের আনন্দময় উত্সব হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কালে কালে ঋতুস্নানের শেষে মানুষী যেমন আবার গর্ভিনী হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠেন, তেমনি পৃথিবীও আষাঢ়-এর নব ধারাস্নান শেষে শস্যশালিনী হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠার ধারণা। অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তির কাল আজ হয়ে উঠেছে সেই শস্য কামনায় আরাধনা ও অপেক্ষার কাল।আসলে, ঐতিহ্যের এও এক লীলা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news