দেবক বন্ধ্যোপাধ্যায় 
পশ্চিমবঙ্গে এসে মেদিনীপুর থেকে যাদবপুর এমনকী উত্তরপাড়াতেও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কানহাইয়া কুমার। বিক্ষোভ বললে কম বলা হয় মেদিনীপুর এবং যাদবপুরে কানহাইয়া আক্রান্ত হয়েছেন বলেও এআইএসএফ-এর পক্ষে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর মুখে কালি মাখানো হয়েছে মেদিনীপুরে এবং যাদবপুরে একইরকম চেষ্টা করা হয়েছে। যাদবপুরের ঘটনার যাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, “লোকটিকে এমনভাবে মারা হয়েছে যে তাঁর মুখ থেকে রক্ত বেরিয়ে গেছে।” লোকটি বলতে তাঁর কথা বলা হয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে কানহাইয়া কুমারকে হেনস্থার চেষ্টার অভিযোগ। ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে সেই ব্যক্তির ছবি। যাঁকে দেখে প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মনে হয়েছে, একজন গরীব মানুষ যাঁকে টাকা দিয়ে কানহাইয়ার সভা ভণ্ডুল করতে পাঠান হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের নেতা জিষ্ণু বসুর চোখে “উনি একজন দেশপ্রেমী” আর অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদের পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান রমেন ত্রিবেদীর কথায় “উনি আমাদের সদস্য নন।” যাদবপুরে সেদিন যে মানুষটিকে মারা হল তাঁর পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে সেদিন এমনটাও শোনা গেছিল যে যাঁরা কানহাইয়ার সভা বানচাল করতে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন হলে হাসপাতালের খাতায় তাঁদের নাম ধাম থাকার কথা। তাঁদের পরিচয় ঠিক কী! তা হয়ত সময় হলে জানা যাবে। তবে সেদিন যাঁরা তাঁদের চোরের মার মারলেন তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন! উত্তরপাড়ায় যাঁরা কানহাইয়ার সভায় বিক্ষোভ দেখাতে এসেছিলেন তাঁদের শায়েস্তা করতে পুলিশের লাঠি কসুর করেনি। এমনকী মহিলাদেরও রাস্তায় ফেলে মারতে পিছপা হয়নি মমতার প্রশাসন। এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে ঠিক কোন যুক্তিতে সেদিন যাদবপুরে যাঁরা আইন হাতে তুললেন তাঁদের হাতের সুখ করার দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল সাংবাদিক পেটানো পুলিশ!
কানহাইয়ার সভাগুলি প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষে রাজ্যের শাসকদলের উপকারেই এসেছে। কানহাইয়াও যে রাজ্যে কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের মাথা ফেটেছে পুলিশের লাঠির আঘাতে, সেই রাজ্যে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের কন্ঠরোধের কথা বলেছেন তবে ভুলেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেননি। দুর্নীতির কথা বলেছেন কিন্তু সারদা -নারদার উল্লেখ করেননি। তাঁর যাবতীয় আক্রমণ বিজেপি-আরএসএসের প্রতি একনিষ্ঠ ছিল! হতে পারে ডি-ফোকাসড হতে চাননি। হতে পারে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৌশলগত ভাবে আক্রমণ করেননি। কিংবা হয়ত বাস্তবটা বুঝে নিয়েছেন। বুঝে ফেলেছেন পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলে বিড়ম্বনা না বাড়ানোই ভাল! তিনি কী ভেবেছেন তিনিই বলতে পারবেন তবে এই রাজ্যে বাম মতাদর্শে যাঁরা বিশ্বসী, বিশেষ করে যাঁরা কানহাইয়ার বয়সের কাছাকাছি , কিছু কম বা কিছু বেশি, তাঁরা ঘুরে দাঁড়াতে তাঁকেই ভরসা করেছিল। এমনিতে তাঁর বাগ্মীতা প্রশংসনীয়। সব চেয়ে বড় কথা বামেদের সভা মানেই তত্ত্বের কপচানি কিংবা কিছু ক্লিশে হয়ে যাওয়া শব্দের ব্যবহার শুনে শুনে ক্লান্ত বামমনস্ক মানুষ কানহাইয়ার মধ্যে খোলা হাওয়া খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁরা হতাশ হলেন। সম্ভবত গণতন্ত্র ও দুর্নীতি নিয়ে বলতে গিয়ে তাঁর একচোখামি তাঁকে আর পাঁচজন সাধারণ রাজনীতিকের সঙ্গে একাসনে বসিয়ে দিয়েছে তাঁদের চোখে যাঁরা তাঁর কাছ থেকে আরও বেশি কিছু আশা করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রতিফলনও হয়েছে। বাম সমর্থকদের একাংশের আশা মেটাতে কানহাইয়া এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টে তিনি না চাইলেও কালির বদলা রক্তের রাজনীতিতে হাত লাল করেছেন তাঁর সমর্থকরা। সংঘের নেতা জিষ্ণু বসু বলেছেন, “কানহাইয়া কুমাররা দেশকে টুকরো করার কথা বলেন। প্লেনে চড়ে, স্টার হোটেলে থেকে দেশকে টুকরো করার জন্য সারা ভারত ঘুরছেন। এত টাকা কে দিচ্ছে? জঙ্গলমহলে একটা স্টেজ ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরনে যে টাকা লাগে তা দিয়ে একটা বনগ্রামের লোককে দুবেলা খাইয়ে দেওয়া যায়। তাই কানহাইয়ার মদতদাতারা ভারতের গরীবের কথা ভাবে না। এটা এইট বি বাসস্ট্যান্ডের একজন দেশভক্ত রিক্সাচালক থেকে গবেষক ছাত্রও বোঝেন। তাই কেউ হয়ত এই ধান্দাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন। তাকেই বামেরা স্বভাবসিদ্ধভাবে মারধোর করেছে। আমার মনেহয় কানহাইয়াদের উপেক্ষা করা উচিত। এদের কোন জনসমর্থন নেই। এইসব নাটক করেই খবর হতে চায়। আজ বাজারি পত্রিকাগুলির অতিবাম কলামে বা বাম মুখপত্রের প্রথম পাতায় তারই প্রতিফলন হয়েছে।”
সে যাই হোক কালো কালির বদলা লাল রক্ত গৃহযুদ্ধের সলতে না পাকালেই মঙ্গল।
তথ্য সহায়তা – মধুমন্তী এবং প্রসেনজিৎ ধর
দেখুন ভিডিয়ো
লাইক শেয়ার ও মন্তব্য করুন
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news