প্রসেনজিৎ ধর:
উপনির্বাচনে তৃণমূলের ৩-০ জয়ের কারিগরও নাকি ঠিক তিন জন। তিনের মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে দুই নেতার অবদান রয়েছে বলে মনে করছে শাসক দলের উচ্চ নেতৃত্ব তথা জয়যুক্ত হওয়া বিধায়করা। এই দুজন হলেন প্রবীর ঘোষাল ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার এদের নেপথ্যে ছিলেন নাকি শুভেন্দু অধিকারি। আসল কথা হল তিন আসনের মধ্যে বিশেষত কালিয়াগঞ্জে এত বড় ধাক্কা আশা করেনি বিজেপি। কারণ গত লোকসভা ভোটের ফলাফল।
লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের দখলে থাকা একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতেও জয় ছিনিয়ে নেয় গেরুয়া শিবির। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রেও গত লোকসভা ভোটের নিরিখে বিচার করলে বিজেপি এগিয়েছিল প্রায় ৫৭ হাজার ভোটে। কিন্তু সেই কেন্দ্রেও ঘটল উলটপুরাণ। কুপোকাত বিজেপি প্রার্থী। জয়যুক্ত হল শাসক দল।
উল্লেখ্য, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ৫৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে (লোকসভার নিরিখে) থেকেও লড়াই শেষ করল ২৩০৪ ভোটে জয়লাভ করে। বিজেপির কমল চন্দ্র সরকার পরাজিত হলেন। জয়ী তৃণমূল প্রার্থী তপনদেব সিংহ। স্বভাবতই সবুজ আবির উড়ল কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার আকাশেবাতাসে। ইতিমধ্যে তপনদেব সিংহ এই জয় উৎসর্গ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীর ঘোষাল সহ রাজ্যের উচ্চ নেতৃত্ব এবং অসংখ্য তৃণমূল কর্মী আমার জন্য দিনরাত এক করে খেটেছেন। প্রচার করেছেন, আমার জয়ের পেছনে তাঁদের অবদান মনে রাখার মতো। আত্মবিশ্বাসী তাপনদেব আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী দিনে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় উন্নয়ন করে বিরোধীদের তাক লাগিয়ে দেব।

মনে করা যেতে পারে যে, কালিয়াগঞ্জে বিগত লোকসভা ভোটে ৫৬৭০২ ভোটের লিড পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। ফলে বিজেপির প্রত্যাশা ছিল, উপনির্বাচনে জয় পাবে তারাই। জয় নিশ্চিত করতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সহ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিংহ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুকুল রায়রা কালিয়াগঞ্জে দলের হয়ে প্রচার করেন। আজ বোঝাই যাচ্ছে তাতে খুব একটা লাভের লাভ হয়নি। অন্যদিকে যাঁকে তৃণমূলের এই জয়ের অন্যতম কারিগর মনে করছে স্থানীয় প্রার্থী রাজ্য তৃণমূলের সেই অন্যতম নেতা তথা উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল বলেন, কালিয়াগঞ্জের মানুষ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের শরিক হতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে বেছে নিয়েছেন। আস্থা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রীর উপরে। প্রবীরের মতে, সার্বিক উন্নয়নের পক্ষে ও এনআরসি’র বিপক্ষে রায় দিয়েছে মানুষ। একই প্রসঙ্গে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজে খুশি হয়ে তৃণমুল প্রার্থীকে জিতিয়েছে মানুষ। আরও বলেন, ধর্ম নিয়ে বেশি দিন রাজনীতি করা যায় না। সে কারণেই বিজেপি তিনটের একটাতেও খাতা খুলতে পারেনি।
তবে, প্রথমেই যা বলা হয়েছিল, তৃণমূলের এভাবে তিন আসনে মারাকাটারি জয়ে প্রবীর, রাজীব ছাড়াও আরেক কারিগরের নাম উঠে আসছে। যিনি গত লোকসভা নির্বাচনে অধীরের গড়ে চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছিলেন খোদ অধীর চৌধুরীকেও। সেই নেপথ্য ‘শিল্পী’ শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন বিধানসভাতেই তৃণমূলের জয়ে তাঁর হাতযশ কম নয়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news