কিশোর ঘোষঃ

বিরল দৃশ্য! ফেলুদা আর কাকাবাবু চা খাচ্ছেন। ভিক্টোরিয়ার ঠিক উল্টো দিকে। রহস্যময় আলো-অন্ধকার, একটা অস্থায়ী চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ওঁরা। অন্ধকার কারণ ময়দানের দিকে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ওই চায়ের দোকানে একটা টিমটিম চায়না বাল্ব জ্বলছে।
ফেলুদা বলল, ‘কী মনে হয় কাকাবাবু? মিশন সাকসেসফুল? স্টুডিওপাড়ার সমস্যার কি সমাধান হল?’
কাকাবাবু মুখে চুরুট। তিনি ধোয়া ছেড়ে বললেন, ‘হুমম।’
ফেলুদা চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে ভাড়টা ডাস্টবিনে ফেলল। চারমিনার ধরিয়ে বলল, ‘মুখ্যমন্ত্রী উচিত কাজ করেছেন। এই শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক, চ্যানেলওলা—সবাইকে এগোতে হবে, সিরিয়াল-রহস্য সমাধানে।’
কাকাবাবু বলল, ‘কিন্তু!’
বোঝাই যাচ্ছে, যতই সবকটা নিউজ চ্যানেলে দেখাক— মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সিরিয়াল সমস্যার সমাধান হল, কাকাবাবু আর ফেলুদা কিন্তু তা মনে করছে না। কিন্তু আমরা অন্য কথা ভাবছি।
ভাবছি দুর্দান্ত একটা ঘটনা ঘটিয়ে দিল নবান্ন, মানে ঘটিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। টাইম মেশিন এলোমেলো করে দিয়ে, সত্যি-মিথ্যে গুলিয়ে দিয়ে তিনি ফেলুদা আর কাকাবাবুকে এক বৃহস্পতিবারের বিকেলে এক করে দিলেন। দুজনের দেখা হয়ে গেল! না হলে একজন আন্দামানের সবুজদ্বীপে থাকেন তো অন্যজন মুকুলকে বাঁচাতে ছোটে রাজস্থান। একজন সন্তুকে নিয়ে মিশর চলে যান রহস্যের সমাধানে, তো আরেকজন কাটমুণ্ডুতে লালমোহনবাবু আর তোপসেকে নিয়ে।
ফেলুদা বলল, ‘আমি মনে করি অভিনেতা অভিনেত্রীদের দাবি ন্যায্য।’
কাকাবাবু মাথা নাড়লেন। বললেন, ‘বড় অভিনেতারা তবু বেশি পয়সা পায়। কিন্তু ছোট অভিনেতা, টুকিটাকি কাজ করা কলাকুশলীদের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পাওনা না মিটিয়ে দেওয়াটা ক্রাইম।’
ফেলুদা পাঞ্জাবির পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলল, ‘এবার যদি উচিত কাজ হয়।’
কাকাবাবু ক্র্যাচটাকে উচিয়ে ধরে রোগা চাওলাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ফেলু, ধরো এই লোকটার পয়সা না মিটিয়ে যদি আমরা পালাই!’
‘তাহলে আর কীসের বিবেক বোধ?’ চেঁচিয়ে উঠল ফেলুদা।
কাকাবাবু বুঝিয়ে বললেন, ‘প্রযোজক আর চ্যানেলের মধ্যে আসলে কী রকম সম্পর্ক তা কিন্তু আমরা জানতে পারছি না। এই যে প্রযোজকরা বলছেন, চ্যানেল সময় মতো টাকা মেটায় না। তার মধ্যে কতটা সত্যি কতটা জল!’
‘কিন্তু তার জন্য সামান্য রোজগেরে কলাকুশলীদের ভুগতে হবে কেন বুঝতে পারছি না।’ কথাটা ফেলুদা বেশ বিরক্তি প্রকাশ করে বলল।
কাকাবাবু বলল, ‘ঠিক তাই।’
ফেলুদা গম্ভীর হয়ে বলল, ‘অতএব কে সত্যি কে মিথ্যে গুলিয়ে যাচ্ছে কাকাবাবু। চোখের সামনে একটা রহস্য তৈরি হচ্ছে!’
‘কিন্তু রহস্য যখন আছে তখন সেই রহস্যের জট ছাড়ানোর পথও আছে। সেটা বের করাই তোমার আমার মতো গোয়েন্দাদের কাজ।’
ফেলুদা বলল, ‘আজকের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় কাল শুটিং শুরু হচ্ছে ঠিক।’
কাকাবাবু বলল, ‘কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবাই আদৌ রাজি হয়েছে কিনা, তাই ভাবছ তো?’
ফেলুদা বলল, ‘ঠিক তাই।’
‘হয়তো একটা কাজই রহস্য সমাধানের পথ বাতলে দিতে পারে।’ বললেন কাকাবাবু।
ফেলুদা দ্রুত বলল, ‘জয়েন্ট কমিটির মিটিং ছদ্মবেশ ঢুকে পড়া যায় যদি!’
কাকাবাবু বললেন, ‘দুজনকেই যেতে হবে। চাপা ঝামেলা জানতে হবে। কে কাকে ঠকাচ্ছে…!’
ফেলুদা বলল, ‘আমি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মবেশে যাব। আপনি?’
‘আমি আরেক চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ-এর মেকআপে। মনে রেখো, সৌমিত্র আর প্রসেনজিৎ মিটিংয়ে আসার আগেই আমাদের হাঁড়ির খবর জানতে হবে।’
ফেলুদা হেসে বলল, ‘না হলে হাঁটে আমাদের হাঁড়িটাই ভাঙবে!’
ফেলুদা একটা হলুদ ট্যাক্সি দাঁড় করালো। দুজনে চড়ে বসল ট্যাক্সিতে। কাকাবাবু ড্রাইভারকে বললেন, ‘রজনী সেন রোড।’ ফেলুদা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই কাকাবাবু বললেন, ‘তুমি বাঙালির দাদা, আমি কিন্তু কাকা, মানে সম্পর্কে বড়। অতএব তোমাকে নামিয়ে আমি ফিরব।’
অন্ধকার ময়দানের পথে ধোঁয়া ছেড়ে ট্যাক্সি অদৃশ্য হয়ে গেল!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news