নিজস্ব সংবাদদাতা:
জেএনইউ-তে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় যখন দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়, তখন সেই ঘটনাকে ঘুরিয়ে সমর্থন করলেন কবির সুমন। সঙ্গীত শিল্পীর কথায়, বিশ্বাসের জোরে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙা গেলে, কেউ বিবেকানন্দের মূর্তিও ভেঙে ফেলতে পারে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দিল্লির জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ বা কারা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে ভাঙচুর চালায়। সঙ্গে কালি লেপে দেওয়া হয় মূর্তিতে। যারাই করুক তাদের অসন্তোষ যে গেরুয়া শিবিরের প্রতি তা বোঝা গিয়েছে। কারণ, মূলত বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারকে নিশানা করেই কটু কথা লেখা হয়েছে মূর্তি-স্থলে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী করে দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠে নিন্দার ঝড়। সেই একই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কবি সুমন বলেন, ”বিশ্বাসের জোরে কেউ যদি ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙতে পারে, তাহলে কেউ স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিও ভাঙতে পারে।”
সুপ্রিম কোর্টের অযোধ্যা রায়কে কার্যত কটাক্ষ করেন শিল্পী। বলেন, ”মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট তো এমনই একটা রায় দিলেন, বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে! বেশি দিন আগের ঘটনা না। ১৯৯২ সাল নাগাদ আমরা দেখলাম, এলকে আডবানি, উমা ভারতীরা বাবরি মসজিদের উপরে উঠে ধেই ধেই করে নাচছেন। গোটা বিশ্বও দেখল।”
কবিরের কটাক্ষ, ”এখন শুনছি তাজ মহল সহ অনেক পুরনো কেল্লাও নাকি ভাঙা হবে। সবই নাকি বিশ্বাস!” জেএনইউ-র ঘটনাকে প্রচ্ছন্ন সমর্থনের সুরেই সুমনের মন্তব্য, ”কী আর বলব! তাহলে ওই একই বিশ্বাসের জোরে কেউ বিবেকানন্দের মূর্তিও ভেঙে ফেলতে পারে।”
কবির সুমনের এমন মন্তব্যের সঙ্গে অবশ্য রাজ্যের অন্য বিশিষ্টজনেরা একবারেই একমত নন। সকলেই দিল্লির জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যাল্যের মতো শিক্ষাকেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটায় মর্মাহত।
এদিকে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতর বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুর করায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেএনইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁরা যদি বিশ্ববিদ্যালের ছাত্র হন, তা হলে কঠোরতম শাস্তি হিসেবে বহিষ্কারও করা হতে পারে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news