নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
দুর্গাপুরঃ মুখ্যমন্ত্রী সবুজ বাঁচানোর ফিরিস্তি দিলেও বাস্তব তাঁর উল্টো ঘটছে। রাস্তা সম্প্রসারনের দোহাই দিয়ে লুট হচ্ছে কোটি টাকার সবুজ। এমনই আর্থিক তছরূপের ঘটনার ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের মেমারি-তারকেশ্বর রোডে।
জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির নেতৃত্বে চলছে এই বৃক্ষ নিধন। শুধু সড়কের পাশে থাকা গাছই নয়। সড়ক থেকে বহু দূরে সেচ ক্যানেলের পাড়ে থাকা মূল্যবান গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। সেচ দপ্তরের অভিযোগ, ‘কিছু না জানিয়েই ক্যানেলের পাড়ে থাকা বহু গাছ নির্বিচারে কেটে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’ সরকারি গাছ কেটে বিক্রি প্রক্রিয়াতেও চরম দুর্নীতি হয়েছে বলে বিরোধীদের পাশাপাশি শাসকদলের একাংশ অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, কোটি টাকা মূল্যের গাছ কাটা হলেও সরকারি তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা। সবুজ ধ্বংস করে অর্থ আত্মসাৎ-এর এই অভিযোগ ঘিরে গোটা জামালপুরে শোরগোল পড়ে গেছে।
দীর্ঘ দিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকার পর শুরু হয়েছে মেমারি-তারকেশ্বর রোড সংস্কারের কাজ। রাস্তাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। যদিও সড়কপথ কতটা সম্প্রসারণ হবে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে জামালপুর ব্লকের বিডিও সুব্রত মল্লিক নিজেই। ব্লক প্রশাসন পূর্ত দফতর ও ঠিকার সংস্থার কাছে এই রাস্তার সংস্কার কাজের সরকারি ওয়ার্ক অর্ডার চেয়েছিল। অভিযোগ, কাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন কটে গেলেও পূর্ত দপ্তর বা ঠিকাদার সংস্থা কেউই ব্লক প্রশাসনের কাছে কোন ওয়ার্ক অর্ডার বা নকশা কপি আজও অবধি পাঠায়নি । শুধুমাত্র সড়ক পথের ধারে থাকা গাছ কেটে সরিয়ে নেবার কথা জানিয়ে ব্লক প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয় ঠিকাদার সংস্থা। আর এই চিঠি হাতে আসার পরেই জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্তারা অতি উৎসহে গাছ কেটে বিক্রি করা শুরু করে। বিগত প্রায় দু’মাস ধরে চলছে মেমারি তারকেশ্বর রোডের ধারে থাকা বৃক্ষ নিধন।
জামালপুর সেচ দফতরের সাবডিভিশনাল অফিসার জয়ন্ত কোলে জানিয়েছেন, ‘রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছকাটা চলছে। জামালপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর থেকে চৌবেড়িয়া পুল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক পথের বহুদূরে ক্যানেলের পাড়ে থাকা মূল্যবান গাছগুলিও কেটে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরেই বিডিওকে চিঠি করে সেচ দফতরের ক্যানেলের পাড়ে থাকা গাছকাটার কাজ বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছে।’ জামালপুর সেচ দফতরের কর্তা এমন কথা জানালেও বৃহস্পতিবারও পুরোদমে চলেছে ক্যানেলের পাড়ের গাছকাটা।
বিডিও সুব্রত মল্লিক স্বীকার করে নেন যে গাছ কাটা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়টি তাঁর কাছে পরিস্কার নয়। তিনি বলেন, ‘গাছ কেটে বিক্রি বাবদ সরকারি তহবিলে ৩০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে বলে জেনেছি। গাছ বিক্রি বাবদ কত টাকা মোট জমা হবে তার কিছুই জানা নেই।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ক্যানেলের পাড়ে থাকা গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে সেচ দপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। ক্যানেলের পাড়ের গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত হবে।
জামালপুরের বিধায়ক সমর হাজরা জানিয়েছেন, ‘রাস্তা সম্প্রারন কাজ সংক্রান্ত তথ্য পূর্ত দপ্তরের কাছে চেয়েছিলাম। কিন্তু পূর্ত দপ্তর কোন তথ্য দিতে চায়নি। মৌখিক ভাবে জানিয়েছে, রাস্তা ১০ মিটার চওড়া হবে। কত মূল্যে গাছের টেন্ডার ডাকা হয়েছিল এই সব বিষয় অস্বচ্ছ। বিধানসভাতেও বিষয়টি উত্থাপন করব।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামালপুরের এক তৃণমূল নেতার অভিযোগ, গাছ কেটে বিক্রি প্রক্রিয়ায় চুড়ান্ত দুর্নীতি হয়ছে। তাই কোটি টাকা মূল্যের গাছ বিক্রি হলেও সরকারি তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news