সায়ন্তনী সেনগুপ্ত
করোনা ভাইরাসের (Cooronavirus) মোকাবিলায় একটাই কথা বলা হচ্ছে বারবার। ‘ব্রেক দ্য চেইন’। অর্থাৎ ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে লাগাম দিয়ে দেওয়া। এই লাগাম যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে সাময়িকভাবে হলেও ভাইরাস থমকে যাবে। যে কোনও ভাইরাস ঘটিত সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি পরীক্ষিত এবং সফল বলে স্বীকৃত। রবিবার ২২ শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনতা কা্র্ফু-র ডাক দিয়েছেন। দেশবাসীকে বলা হয়েছে সকাল সাতটা থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে না বেরোতে। এরপরই বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠেছে সোস্যাল মিডিয়া এবং সাধারণ মানুষের একাংশ। মোদী বিরোধিতায় সরব নেটনাগরিকরা। একদিনের গৃহবন্দী দশাও মেনে নিতে রাজি নন অনেকে। কারও মতে জনতা কার্ফু শুধুই কেন্দ্রীয় সরকারের গিমিক। কেউ আবার প্রকাশেই বলছেন কার্ফু মানেই সরকারের জবরদস্তি। সেইদিন আদেশ ভাঙার জন্যই রাস্তায় নামবেন তাঁরা। জনতা কার্ফু কোনও কার্যকরী পন্থা না শুধুই ‘জবরদস্তি’ এই নিয়ে নেটিজেনরা লড়লেও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের এই পদ্ধতিটি যে বিজ্ঞানসম্মত তা নিয়ে দ্বিমত নেই শহরের বেশ কিছু নামী চিকিৎসকের মধ্যে।
স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিনের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান এবং বিশিষ্ট সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দীর কথায়, ভাইরাস ঘটিত রোগ মোকাবিলার স্বীকৃত পদ্ধতি ‘ব্রেক দ্য চেইন’। শুধু রোগ পালটালে মোকাবিলার পদ্ধতি পাল্টে যায়। ডেঙ্গু, ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া কালাজ্বর সবই এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে অতীতে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। করোনা যেহেতু মানুষবাহিত রোগ অর্থাৎ মানুষের হাঁচি, কাশি , লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় এই রোগের সঙ্গে লড়ার প্রথম এবং মুখ্য পদ্ধতি মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ কমিয়ে দেওয়া। অথবা বলা যায় মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বাড়িয়ে দেওয়া। একদিনের জন্যও যদি সফলভাবে এই কাজ করা যায় তাহলে ভাইরাস বৃদ্ধি আটকানো যাবে অনেকটাই। করোনা ভাইরাস মানুষের শরীরের সংস্পর্শ ছাড়া বাঁচে না। যে কোনও ভাইরাসের মতই এই ভাইরাসও মানব শরীরের বাইরে মৃত। শরীরের সংস্পর্শে এলে তবেই জীবিতের মত ব্যবহার করে করোনা।
শনিবার রাত থেকে রবিবার সারা দিন এবং তারপর রাত ন’টা এই সময়টা ভাইরাসের বৃদ্ধি আটকানোর পক্ষে বেশ খানিকটা সময় বলে জানিয়েছেন অমিতাভবাবু।এই দীর্ঘ সময় একজন মানুষ অন্য মানুষের সংস্পর্শে না এলে তৎক্ষনাৎ ভাইরাসের বৃদ্ধি ধাক্কা খাবে। শুধু তাই নয় পরবর্তী সংক্রামকের শরীর না পাওয়ার বড় সংখ্যার জীবানু নষ্টও হয়ে যাবে বলে মত চিকিৎসকের। অন্যান্য অনেক উদ্দেশ্যের সঙ্গে জনতা কার্ফুর এটাও একটা উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন অভিতাভ নন্দী।তবে একদিনের এই পদ্ধতিতে করোনা বাগে আনা যাবে বলে যে খবর রটছে তাও নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি।
তাঁর মতে, এই মুহূর্তে ভাইরাস খানিকটা কম করে বৃদ্ধি একদিনের জন্য আটকানোর এটি এক পরীক্ষামূলক পদ্ধতি। এর মানে একেবারেই এই নয় যে করোনা ভাইরাস থেকে বিপদের সম্ভাবনা কিছুমাত্র কমল। চূড়ান্ত সতর্কতা এবং সচেতনতা ছাড়া এই রোগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকের। তাঁর মতে এই রোগের সঙ্গে লড়ার জন্য এখন প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরবর্তীতে যাই হোক রবিবারের জনতা কার্ফু মেনে সরকারের প্রতিটি নির্দেশকে অক্ষরে অক্ষরে মনে চলার আবেদন জানিয়েছেন প্রবীন এই চিকিৎসক।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news