পার্থসারথি পাণ্ডা
দেবী জগদ্ধাত্রী দেহে জগতকে ধারণ করে ধাত্রীরূপে তাকে লালনপালন করেন। তিনি ব্রহ্মরূপিণী, কারণ ব্রহ্ম থেকেই তাঁর উদ্ভব। তাই ব্রহ্ম যেমন সমস্ত চরাচরসহ ব্রহ্মাণ্ডে ব্যাপ্ত, তেমনি তিনিও। তিনি প্রবলতম নারীশক্তির প্রতীক উমার অংশ। নারী যখন প্রবলভাবে বিদ্যাবুদ্ধি ও চর্যায় পুরুষকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল, সেই উপনিষদের যুগে প্রতীকীভাবে দেবীর উত্থান। উপনিষদের গার্গী ও যাজ্ঞবল্ক্যের উপাখ্যানে দেখতে পাই যাজ্ঞবল্ক্য গার্গীর প্রশ্নের জবাব না দিতে পেরে, তাঁর প্রজ্ঞার কাছে হেরে গিয়ে ঋষির সংযম খুইয়ে তাঁকে মুণ্ড খসে পড়ার অভিশাপ দিয়ে নিরস্ত্র করতে চেয়েছিলেন। তখন থেকেই এভাবে শুরু হয়ে গিয়েছিল পুরুষের দমননীতি।
পুরুষের এই উপেক্ষা আর দমননীতিরই একটি রূপক আমরা দেবী জগদ্ধাত্রীর উপাখ্যানে পাই কেনোপনিষদে। সেখানে অগ্নির মতো আত্মদম্ভী দেবতারা ব্রহ্মকে অস্বীকার করতে চাইলেন। অসুরদের বিরুদ্ধে তাঁদের যে যুদ্ধ এবং তাতে জয়ের সমস্ত কৃতিত্ব একমাত্র তাঁদেরই। তাঁরা প্রচার করতে লাগলেন যে, নিজেদের বাহুবলেই তাঁরা জিতেছেন। তখন ব্রহ্ম স্বয়ং এলেন তাঁদের কাছে, তাঁদের সত্যপথ দেখিয়ে দেবার জন্য। তিনি তাঁদের অহং বিনষ্ট করার জন্য সামনে রাখলেন একটি ঘাসের টুকরো। বললেন, সেই টুকরোটিকে সরিয়ে দিতে। কিন্তু অহংকারী দেবতারা সেই টুকরো না পারলেন আগুনে পোড়াতে, না পারলেন হাওয়ায় ওড়াতে, আর না পারলেন জলে ভাসিয়ে দিতে। তখনও তাঁরা ব্রহ্মকে চিনতে পারলেন না। রাগে অন্ধ হয়ে তাঁকেই বিনষ্ট করতে চাইলেন। কিন্তু পারলেন না। বাধ্য হলেন নতিস্বীকার করতে। তখন ব্রহ্ম থেকে আবির্ভূত হলেন হৈমবতী দেবী উমা, জগদ্ধাত্রী। তিনিই দেবতাদের দান করলেন পূর্ণ ব্রহ্মের জ্ঞান। এই কাহিনির পরিপূর্ণরূপ আমরা পাই পরবর্তীকালের কাত্যায়নীতন্ত্রে।
আমাদের বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন কমবেশি থাকলেও কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের উৎসাহে সতের ও আঠারো শতকে শাক্তধর্মের পুনরুজ্জীবনের সাথে সাথে দুর্গা ও কালী পুজোর প্রসার যেমন ঘটেছে, তেমনি ঘটেছে দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজোর প্রসারও।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news