কিশোর ঘোষঃ

অঞ্জন দত্ত রেখেঢেকে কথা বলার মানুষ না। যেই বললাম, বাংলার অন্যতম সেরা অভিনয় প্রতিভা আপনি। ২৮ বছর বয়সে প্রথম ছবিতে ভেনিস ফেস্টিভেলে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু অভিনেতা অঞ্জন দত্তকে আমরা সেভাবে পাই না কেন? ওমনি সোজাসুজি উত্তর করলেন, ‘একটা দীর্ঘ সময় আমাকে অভিনয় করতে দেওয়া হয়নি।’ আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকলাম মানুষটার দিকে। সুমন মুখোপাধায়ের ‘মহানগর@কলকাতা’ দেখে মনে হয়েছিল— এই হল অভিনয়ের পারফেকশন। একচুল বেশি নয়, কমও না। সেই মানুষটাকে এমন বেদনা সয্য করতে হয়েছে! তবে সত্যি যে একটা বড় সময় ওঁকে অভিনয় করতে দেখিনি আমরা। তার কারণ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জানার কথা না। জানতামও না। কিন্তু তাই বলে অঞ্জনের মতো দুর্দান্ত অভিনেতার সঙ্গে এমন অন্যায় হয়েছে! অঞ্জন থেমে থেমে বললেন, ‘শুরুর দিকে মৃণালদা (সেন), বুদ্ধদার (দাশগুপ্ত) সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু তারপর সুযোগ পাইনি।’ এও বললেন, ‘কতকটা সেই কারণেই পরিচালনায় আসা।’ কিন্তু কেন সুযোগ দেওয়া হয়নি? কারা আটকে ছিল তাঁকে? সে কথা এড়িয়ে গেলেন ‘চালচিত্র’, ‘খারিজ’-এর মতো ছবিতে মন মাতানো কাজ করা অভিনেতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হল আজকের বাঙালি অঞ্জন দত্তকে একজন পরিচালক হিসেবেই চেনে!
সোমবার দুপুরে রিপন স্ট্রিটে সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘এক যে ছিল রাজা’র ট্রেলার লঞ্চে এসেছিলেন অঞ্জন। ‘সন্ন্যাসী রাজার’ গল্পটি নিয়ে নতুন করে ছবি করছেন সৃজিৎ। এই ছবিতে অনেক দিন পর অঞ্জন দত্তর অভিনয় উপভোগ করার সুযোগ থাকছে বাঙালির। এখানে ভাওয়াল রাজার পক্ষে ও বিপক্ষে দুই উকিল চরিত্রের অন্যতম অঞ্জন। অন্য উকিল আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। কিন্তু যে কথা হচ্ছিল। তাঁর গানের কথা, পরিচালনার কথা বাদ দিয়েও অভিনেতা হিসেবেও তিনি অপর্ণার মতোই কিংবদন্তি। সেই লোকটাকে কাজ চাইতে হবে, ভালো চরিত্র দাও গো বলতে হবে? অঞ্জন জানালেন, ‘সৃজিৎ কিন্তু এর আগেও অনেকবার ওঁর ছবিতে কাজ করতে বলেছে আমাকে। আমি করিনি।’ স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাকিয়ে বললেন, ‘পছন্দ হয়নি চরিত্র তাই করিনি। এক যে ছিল রাজার চরিত্রটা ভালো। তাছাড়া সঙ্গে রিনাদি করছেন। রাজি হয়ে গেলাম।’ বললেন, ‘চরিত্র ভালো হলে ছোট কাজও করেছি। রিনাদির মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার-এ ওই চরিত্রটায় যার করার কথা ছিল তিনি করলেন না। রিনাদি আমায় বলল। আমি দেখলাম ছোট কিন্তু এখানে কিছু করার আছে। এবং করলাম। সব সময় পয়সাটা বড় না। আসল কথা সিনেমাটাকে ভালো হতে হবে।’ আহা, এই না হলে আমাদের প্রিয় অভিনেতা!
অঞ্জনকে কাছে পেয়ে তরুণ অভিনেতাদের সম্পর্কে তাঁর ধারণার কথা জিজ্ঞেস করলাম। এই যে আপনার সঙ্গে যে এতজন নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা কাজ করছেন তাঁদের কেমন লাগল? সানগ্লাস ঠিক করে অঞ্জন অল্প থামলেন, তারপর বললেন, ‘এদের অনেককেই তো আগে লোকে পাত্তা দিত না। এই যে পরমব্রত, সবাই বলতে লাগল, কে পরমব্রত? বঙ্গ কানেকশন করার পর সবাই ওকে চিনেছে। আজকের অনেক ছেলেমেয়ে ভালো কাজ করছে। যেমন রুদ্রনীল, ঋত্বিক, পরমব্রত, সুদীপ্তা, অনির্বাণ। এরা দক্ষ অভিনতা।’ আরও বললেন, ‘কৌশিককে (গাঙ্গুলী) ওঁরা পাত্তা দিত না। বলত টেলি ফিল্মের ডিরেক্টর। আজকে সবাই দেখছে।’
এমনিতে তার সাফল্য কম নয়। অভিনয়ে, গানে, পরিচালনায় তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বার বার। তথাপি দিনশেষে অঞ্জন দত্ত যেন বিষাদপুজারী এক ‘কবি’। যাকে সাফল্য যেমন ছাড়তে চায় না, ব্যর্থতাও তেমনি ছেড়ে যায় না পুরোপুরি!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news