নীল রায়।
‘আবার ফিরে এলো ৯৭ সালের সেই ইনডোর আউটডোর। নেতারা ইনডোরে, কর্মীরা আউটডোরে। ধন্যবাদ……………।’ এমন বয়ান তৃণমূল নেতা-কর্মী মহলের ব্যক্তিগত হোয়াটস অ্যাপে ঘোরাঘুরি করছে। দলীয় রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইন্সটাগ্রামে পোস্ট না করলেও, তৃণমূলের কর্মী মহলে এখন তা চর্চার বিষয় বটে। আচমকাই এমন পোস্ট কেন ? প্রশ্নের উত্তরে এক প্রবীণ তৃণমূল (TMC) কর্মী বলেন, “যে পোস্টটির কথা আপনি বলছেন, তা আমার কাছেও এসেছে। আসলে ১৯৯৭ সালে এআইসিসির অধিবেশন হয়েছিল কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেখানেই হাজির ছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরী থেকে শুরু করে প্রণব মুখোপাধ্যায়, বরকৎ গণিখান চৌধুরী, সোমেন মিত্র, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী, সুব্রত মুখোপাধ্যায় সহ সব নেতারা। দিদি সেদিন আমাদের নিয়ে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে আউটডোর সভা করেন।” সেই তৃণমূল কর্মীর কথায়, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক জন্ম হলেও, সেই আউটডোরেই পথচলা শুরু করেছিল দিদির তৃণমূল কংগ্রেসের। সেদিন ইন্ডোরের থেকে আউটডোর ছিল বেশি জমজমাট।
১৯৯৭ সালের ৯ আগস্ট দিনটির কথা মনে পড়ছে এমন সব তৃণমূল কর্মীদের, যারা সোমবার তৃণমূলের ইন্ডোরের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাননি। ঘটনাচক্রে, সোমবার সকাল ৯টায় প্রথমে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে দলীয় বিধায়কদের সমক্ষে একসভায় হাজির হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সাংসদ ভাইপো তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। ঠিক এক ঘন্টা পর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১৪ হাজার নেতাকর্মীদের সামনে হাজির হবেন ওই ত্রয়ী। সূত্রের খবর, ‘দিদিকে বলো’-র পর প্রশান্ত কিশোরের উদ্যোগেই ‘বেঙ্গল প্রাইড’ নামে এক কর্মসূচির সূচনা হবে। সেই কর্মসূচি কীভাবে পালন করতে হবে, তা বোঝাতে প্রথমে বিধায়ক ও বাছাই করা নেতৃত্বকে ‘বার কোড’ দেওয়া কার্ড দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সেই ‘বার কোড’ দেওয়া আমন্ত্রণপত্র না পাওয়া এক তৃণমূল কর্মী হলেন দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা তথা জয়েন্ট কাউন্সিল লাক্সারি ট্যাক্সি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ। পোস্টটি তাঁর মোবাইলেও পৌঁছে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “যে বা যারা এই পোস্টটি তৈরি করেছেন তাদের সরাসরি হয়তো চিনি না। কিন্তু, তাঁরা যে অন্তরের বেদনা থেকে এই ধরনের পোস্ট করেছেন তা আমি বুঝতে পারছি। ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে ওইদিন দিদি যে স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘নেতারা ইন্ডোরে, কর্মীরা আউটডোরে।’ সেই স্লোগানটি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি সেদিন কর্মী হিসেবে দিদির সঙ্গে আউটডোরে ছিলাম। আজও কর্মী হিসেবে আউটডোরেই রয়েছি, শুধু দিদি ইন্ডোরে চলে গিয়েছেন।”

ঘটনাচক্রে, সেদিন আউটডোরে থাকা অনেক কংগ্রেস নেতাই এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন। ওইদিন তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাঁধী মূর্তির পাদদেশে সঙ্গী হয়েছিলেন প্রয়াত সাংসদ অজিত পাঁজা। যিনি নেতাজি ইন্ডোরে গিয়েও ফিরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আউটডোরের জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। শুধু যে অতীত দিনের কর্মীরা এই তালিকায় বাদ পড়েছেন এমনটা নয়। বেশকিছু যুবনেতাও ‘বার কোড’ দেওয়া আমন্ত্রণপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তেমনই এক যুবনেতার কথায়, “দক্ষিণ কলকাতার দুই সহোদর যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল যুব কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আমরা তাদের মতো করে রাজনীতি করতে পারছি না বলেই হয়তো আমন্ত্রণপত্র পাইনি।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news