Breaking News
Home / TRENDING / বন্ধুত্বের জন্য লতা, রফি-ই ভরসা ছিল চিনা সৈন্যদের

বন্ধুত্বের জন্য লতা, রফি-ই ভরসা ছিল চিনা সৈন্যদের

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:

১৫ জুন মধ্যরাতে ভারত ও চিনের সেনা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও উত্তপ্ত লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন পিপলস লিবারেশন আর্মিরা ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হিন্দি গানকে হাতিয়ার করত। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে মন জয় করে বন্ধুত্ব করা এবং নিজেদের পোস্ট থেকে পিছু হঠানো। এর জন্য লতা মঙ্গেশকর ও মহম্মদ রফির জনপ্রিয় হিন্দি গান লাউডস্পিকারে বাজাত চিনা সৈন্যরা।

১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধের অন্যতম সেনা নায়ক ফুনচোক তাশী এ প্রসঙ্গে বলেন, যুদ্ধের ঠিক আগে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দু’দেশের সেনাবাহিনী পরস্পর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটাই উত্তপ্ত। যেকোনও সময় যুদ্ধ লাগতে পারে। ঠিক সেই সময় নিজেদের পোস্ট থেকে ভারতীয় জওয়ানদের পিছু হঠাতে এবং বন্ধুত্বের চেষ্টায় উচ্স্বরে হিন্দি গান বাজাত চিনা সৈন্যরা।

৮৪ বছর বয়সী তাশী এখন লে শহর থেকে ১৭ কিমি দূরে স্তক নামক এক গ্রামে বাস করেন। তাঁর কথায়, চিনা সৈন্যরা দুটি গান সবচেয়ে বেশি বাজাত। একটি ১৯৫৪ সালের ‘নাগিন’ সিনেমার লতা মঙ্গেশকরের গান ‘মন ডোলে মেরা তন ডোলে’ এবং অন্যটি ১৯৫৭ সালের একই নামের সিনেমার মহম্মদ রফির গান ‘তুমসে নেহি দেখা’। 

স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তাশী বলেন, “আমি জম্মু ও কাশ্মীরের মিলিটিয়া কোম্পানির (বর্তমানে লাদাখ স্কাউট নামে পরিচিত) দৌলত বেগ ওলডি’র ১৪ নম্বর পোস্টে কর্মরত ছিলাম। আমাদের কাছে নির্দেশ আসে গালওয়ান উপত্যকায় যাওয়ার জন্য। তখন আমরা ঘোড়ায় ও ইয়কে করে গালওয়ানের দিকে রওনা হই। গিয়ে দেখি, চিনা সৈন্যরা পাহাড়ের উঁচু থেকে উচ্চস্বরে হিন্দি গান বাজাচ্ছেন এবং মাঝে মাঝে হিন্দিতেই বলছেন, এই জায়গা না আপনাদের, না আমাদের। আপনারা ফিরে যান, আমরাও ফিরে যাচ্ছি।” এছাড়া তারা লাঞ্চ (Lunch) টাইমের সময় বার বার হিন্দি গান বাজাত। এরকমই পরিবেশ বেশ কয়েকদিন চলছিল। 

আরও পড়ুন: গুণমান খারাপ বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের, চিনের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

১৯৮৮ সালে সেনাবাহিনীর পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন তাশী। বর্তমানে দু’দেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দু’দেশের সৈন্যদের মুখোমুখি দাঁড়ানো একটি সাধারণ ঘটনা। চিনারা পাহাড়ের চূড়ায় থাকত এবং নদীর সমতল অংশে থাকতাম কোনও বিরোধ হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি কেন উত্তপ্ত হয়েছে আমি জানি না। এটা হতে পারে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পাশে ভারত রাস্তা, সেতু নির্মাণ করছে, যা চিনাদের পছন্দ নয়।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *