সায়ন্তনী সেনগুপ্ত।
সামাজিক দূরত্ব ? যাঁরা দিন আনে দিন খায় তাঁদের কাছে এই শব্দটা নেহাৎই সোনার পাথরবাটি। অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষরা বুঝতেই পারছেন না এখন প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেবেন কী ভাবে ? এরকমই একজন পুরবী দাস। প্রতিদিনের মজুরীতে ইটভাঁটায় কাজ করেন। সকাল বেলা গাদাগাদি করে ওঠেন বঁনগা লোকালে সেখান থেকে কাজের জায়গায়। এক মিটার দূরত্ব রাখার কথা বুঝতেই পারেন না এঁরা। এসবের মূল্যও নেই কোনও। প্রাণই বাঁচছে না এখন। সরকারের নিষেধবাণী বুঝতেই পারেন নি।পূরবী দাসের মত অবস্থা সিধু মণ্ডলেরও। কাজই নেই। সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাবেন কি? সিধুর সমস্যাটা আবার অন্য। তিনি সিঁটিয়ে আছেন প্রচণ্ড ভয়ে। মহারাষ্ট্র থেকে প্রাণের ভয়ে কী ভাবে শ্রমিকরা পালিয়ে এসেছেন দেখেছেন তিনি। শুধুমাত্র প্রাণটুকু বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে। কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন সিধু। বাড়িতে ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধা মা আছেন। দেখবে কে এদের তাঁর কিছু হলে ?
তাঁদের কাজ ঠাসাঠাসি গাদাগাদির। এক মিটার দূরত্ব রেখে এই সব কাজ করা যায় না। । পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার অধ্যাপক রাজমোহন পাণ্ডার মতে এই সামাজিক দূরত্ব রেখে কাজ করার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার ফলে এঁদের পেটে টান পড়ছে। আর সামাজিক অর্থনৈতিক সুরক্ষার অভাবই এঁদের ঠেলে দিতে পারে অনিবার্য বিপদের দিকে। এঁদের জন্য না আছে খাদ্যের ব্যবস্থা, না ওষুধ। এঁদের দেখবে কে? কেরালা, উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই দারিদ্রসীমার নীচে থাকা নিজের নিজের রাজ্যবাসীদের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও তেমন কোনও ঘোষণা করেননি। এই পরিস্থিতি চললে কীভাবে এঁদের দিন চলবে সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news