নীল রায়।
“সেদিন আমি অধীরকে চিনতে ভুল করিনি!” কংগ্রেস বিধায়ক দলের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে এভাবেই লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরীকে কুর্নিশ জানিয়ে গেলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার বিধানসভার নৌশার আলি কক্ষে আয়োজিত সভায় হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রায় সব বড় নেতা। অধীর সংবর্ধনায় সোমেন স্মরণ করেন ১৯৯৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা। তিনি বলেন, “এখন যিনি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, ১৯৯৬ সালে তিনি অধীর চৌধুরী, মৃনাল সিংহ রায়, সুলতান আহমেদ ও শঙ্কর সিংকে আমার টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কালো শাল গলায় দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেদিন আমি কোনও চাপের কাছে মাথা নত করিনি। সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে ছিলাম।” সোমেন মিত্র আরও বলেন, “এখন মনে হয় সেদিন আমি অধীরকে চিনতে ভুল করিনি।”
রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য্য বলেন, “নবগ্রামে অধীরের প্রথম প্রচারে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। সেদিন দেখেছিলাম, মুর্শিদাবাদের একজন যুবকের প্রতি মানুষের কী জন সমর্থন। আমরা সোনিয়া গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের রাজ্য থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে তিনি লোকসভায় লড়াইয়ের সুযোগ দিয়েছেন। ৫২ জন সাংসদ নিয়ে অধীরের লড়াই ৩০০ জনের বিরুদ্ধে। লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে অধীর খুব ভালো কাজ করছে।” ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক ভিক্টর আলি বলেন, “হতে পারে আমি আর অধীরবাবু পৃথক মতাদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু, ছোটবেলা থেকেই আমি অধীর চৌধুরীকে একজন লড়াকু নেতা হিসেবে দেখে এসেছি। তাঁর রাজনৈতিক লড়াই দেখে অনুপ্রেরণা পেয়েছি।” এছাড়াও, অধীর চৌধুরীর প্রশংসা করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
বক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “আমাকে আপনার আপনাদের পরিষদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা দিয়ে পরার্মশ দেবেন। যাতে আমি সমস্ত বিষয়গুলি লোকসভায় সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারি। কারণ, বাম ও কংগ্রেসকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার দেশদ্রোহী আখ্যা দিতে চাইছে। আমাদের একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।” নাম না করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে অধীর জানিয়ে দেন, তাদের এই লড়াইয়ে মেকি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলের কোনও স্থান নেই। এমন সংবর্ধনা সভার আয়োজনের জন্য বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তীকে ধন্যবাদ দেন বহরমপুরের সাংসদ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news