নীল রায়
ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাঙালির অতিথি আপ্যায়নের রীতিকে মাথায় রেখেই বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে বাড়িতে লুচি আলুর দম খাইয়ে ছিলেন। সেই ঘটনার জেরেই দলের সঙ্গে বিবাদ, শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান। মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোরের সভা মঞ্চ থেকে এমনটাই বললেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। তিনি বলেন, “মুকুলদা আমার পরিবারের সদস্য। তিনি আমার বাড়ি এসেছিলেন তাকে লুচি আলুরদম খাইয়েছিলাম। আমিতো ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাঙালি রীতিনীতি মেনেই বাড়িতে আসা অতিথিকে আপ্যায়ান করেছিলাম।” দল তথা দলনেত্রীর নাম মুখে না আনলেও কথাগুলি যে তিনি তার ছেড়ে আসা দল কি বলছিলেন তা নেতাজি ইন্ডোরে অবস্থিত প্রত্যেকটি বিজেপি নেতা কর্মী বুঝতে পারছিলেন। তিনি বলেন, “সল্টলেকে দিলীপদার বাড়ি। তিনিও অনেকেই জায়গা চা খেতে যান। তার সঙ্গে কি কেউ দুর্ব্যবহার করে? আতিথিয়তাই তো আমাদের ধর্ম।”
অমিত শাহের উপস্থিতিতেই বিজেপি সভাপতি ঘোষ তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন। তার সঙ্গে বিধাননগর পৌরনিগমের আরও দুই কাউন্সিলর যোগ দেন বিজেপিতে। মুকুল রায়কে বাড়িতে এনে লুচি আলুরদম খাইয়ে যে কোন অন্যায় করেননি তা তিনি বারবার বলে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার জন্য দল তাকে দুষ্ট কখনো প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে অনুতাপ করতে দেখা যায়নি রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ককে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি বছর লোকসভা ভোটের সময় বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে বাড়িতে ডেকে লুচি আলুর দম খাওয়ানোর পর থেকেই সব্যসাচী-তৃণমূল সম্পর্কের অবনতি ঘটে। লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন তিনি। এমনকি এনআরএস কাণ্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমালোচনা করে দলে আরও কোণঠাসা হয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। এরপরই বিধাননগর পৌর নিগমে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে তৃণমূল। আস্থা ভোটে না গিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন সব্যসাচী। মাঝে কখনও নিজের গণেশ পুজোর অনুষ্ঠানে মুকুল-দিলীপ অরবিন্দ মেননকে এনেছেন তিনি। আবার নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে বিধাননগরে আয়োজিত মঙ্গল যজ্ঞে সামিল হয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা চরম উঠেছিল। সেই বৃও সম্পূর্ণ হল এদিন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news