চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
হাওড়া না কয়েকমাস আগের কাশ্মীর! প্রথমবার দেখলে দেখলে বোঝা দায়! রাজ্যের প্রধান সদর দফতর নবান্ন (Nabanna) যেখানে, সেই হাওড়াতেই আক্রান্ত হল পুলিশ। লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে হাওড়ার (Howrah) টিকিয়াপাড়ার কন্টেনমেন্ট জোন বেলিলিয়াস রোডে রাস্তায় নামা জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ব্যাপক মারধোর খেয়ে পালাল বিরাট পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের দুটি গাড়ি। হাওড়ায় ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেখানে মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাস।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে বেলিলিয়াস রোড এলাকাটি হাওড়া থানার অধীন। বিকেল ৪টে নাগাদ সেখানে একটি বাজারে ফল কেনা নিয়ে বেশ কয়েক জন লোককে জমায়েত দেখে পুলিশ। এলাকাটিতে সম্পূর্ণ ভাবে লকডাউন চলছে। তার মধ্যে এই অবস্থা দেখে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ। তবে ওই যুবকরা সরে না গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু করে এবং তা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। লডডাউন উপেক্ষা করে প্রচুর লোক রাস্তায় বেরিয়ে এসে পুলিশের উপরে চড়াও হয়। মারমুখী হয়ে ওঠে। পুলিশ পিছোতে থাকে। তখন পুলিশকে লক্ষ করে ইট ও বোতল ছোড়া শুরু হয়। তাতে দুই পুলিশকর্মী আহত হন। মারমুখী জনতার মেজাজ দেখে প্রাণ ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে এখনও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং চড়তে শুরু হয়েছে পুরোদমে। এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, “হাওড়ায় যা ঘটেছে তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। গোটা বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই রোগের ওষুধ বা ভ্যাকসিন কোনওটাই এখনও আবিষ্কার হয়নি। তাই সামাজিক দুরত্ব একমাত্র পথ। তা না মেনে পুলিশের ওপর হামলা নিন্দনীয় ঘটনা।” গত লোকসভা নির্বাচনে হাওড়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন রন্তিদেব সেনগুপ্ত। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রথম থেকেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় লকডাউন পালনে মুখ্যমন্ত্রীর অনীহা ছিল। রাজাবাজার, ইকবালপুর, খিদিরপুর, গার্ডেনরিচ সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রশাসন কার্যকর করতে সেভাবে তৎপর হয়নি। হাওড়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনা তাই কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।টিকিয়াপাড়ায় পুলিশ মার খেয়ে পালানোর ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনার পর অন্তত মুখ্যমন্ত্রী তোষণের রাজনীতি ছেড়ে পদক্ষেপ নিন। প্রশাসনকে নির্দেশ দিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে।”
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি উল্টে জানতে চান কি হয়েছে। সব শুনে বলেন, ভাগ করে খোঁজ নিয়ে জানাবেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানও এই বিষয়ে মুখ খোলেন নি। রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই টুইট করে জানিয়েছে তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে। কাউকে রেয়াত করবে না। তবে যে ঘটনায় শাসক দল এখনও চুপ। বিধানসভার বাম ও কংগ্রেস নেতা দুজনেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। সেই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা সত্যিই নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পুলিশ মহলেই। দুজন পুলিশ কর্মী এদিনের ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বাহিনীর যে অপমান আজ হল তা পরিসংখ্যানে মাপা যায় না। এমনই বলছে রাজ্য পুলিশের অন্দর মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news