নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে সোনার পদক পাওয়ার পর জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গাইতে হিমার অঝোর কন্যার দৃশ্য। দু’চোখ থেকে গাল বেয়ে নামছে নোনাজল। কিন্তু নির্বাকার সংকল্পের মুখ। কিন্তু কেন কাঁদছিল হিমা? ঠিক যে কারণে ফেডারার, সেরেনারা গ্র্যান্ডস্লাম জিতে কাঁদে। অনেক লড়াইয়ের পর জেতার অতি আনন্দে কাঁদছিল? অনন্ত অভাবের দুনিয়া থেকে এসে অ্যাথেলেটিক্সে দেশকে প্রথমবার সোনার পদক দেওয়ার আনন্দে? নাকি তাকে যাঁরা ছোট করেছিল তাঁদের কথা মনে পড়ছিল হিমার?
যাক গে, আসল কথা হল সোনা জেতার পর সবাই চিনল হিমাকে। শচিন তেণ্ডুলকর, বিরাট খোলি পর্যন্ত শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এখন সকলে বুঝছে কত বড় খেলোয়াড় হিমা। পুরো নাম হিমা দাস । যদিও এতদিন কেউ জানত না। কারণ তাঁর ফ্ল্যাশব্যাক সাদাকালো, অতি সাধারণ। হত দরিদ্র খেত মজুরের মেয়ে। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করার শক্তিটা হয়তো জন্মগত। বিশ্ব অ্যাথেলেটিক্সের আঙিনায় নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে ফেলল সেই। স্বপ্ন সত্যি হল। ভারতীয় খেলাধুলোর ইতিহাসে থেকে যাবে হিমার নাম। অথচ অন্য অ্যাথেলিটরা যখন সাপ্লিমেন্ট খেয়েছে, প্রোটিন পেয়েছে, হিমার কপালে জুটেছে ডাল-ভাত। ছোটবেলায় ধানক্ষেতের আলে দৌড়ে বেড়াত হিমা। সেটাই ছিল প্রাকটিস ট্র্যাক। আসল ট্রাকে দৌড়োনোর সুযোগ হয় অনেক পরে। ছেড়া ও ব্যবহার অনুপযোগী স্পাইক পরে দৌড়েছে, তারপরেও সোনার মেয়ে উঠল সে শুধুমাত্র অদম্য জেদের বলে।
কোচের কথা শুনেছে, কঠোর অনুশীলন করেছে, সবসময় নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকেছে। তাই আজ তাকে গোটা ভারত কুর্নিশ জানাচ্ছে। কিন্তু মেয়েটার ইংরেজি নাকি ফ্লুয়েন্ট নয়, তাতে কার কি এসে যায় কে জানে? ওঁর কাজ তো ইংরেজি বলা না, বরং চিতাবাঘের মতো দৌড়োনো! যে কাজে একশোয় একশো ও। আসল কথা হল মেয়েটা ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইউ২০ চাম্পিয়ানশিপের ৪০০ মিটার দৌড়ে ভারতকে প্রথমবারের জন্য এনে দিল স্বর্ণপদক। গর্বিত করল দেশকে।
এরপর অসমের মেয়ে হিমাকে স্যালুট জানাতেই হয়।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news