নীল রায়।
শিয়রে বাজেট অধিবেশন। তাই রাজ্যপালকে খুশি করতে এবার তাঁর জন্য হেলিকপ্টার (Helicopter) বরাদ্দ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্ন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক ইস্যুতে সংঘাত হয়েছে রাজভবন-নবান্নের। একসময় সেই সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই হেলিকপ্টারই। রাজ্যপালের ফরাক্কায় একটি কলেজের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চেয়েছিল রাজভবন। কিন্তু সে যাত্রায় খরচের কথা বলে হেলিকপ্টার দিতে অস্বীকার করেছিল রাজ্য। যা নিয়ে বেজায় চটেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)।
প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কে জবাব দিতে রাজ্য সরকারের পক্ষে ময়দানে নামানো হয়েছিল মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এক কদম এগিয়ে বলেছিলেন, “রাজভবনের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।” অবশেষে হেলিকপ্টার পাননি রাজ্যপাল। সড়ক পথেই গিয়েছিলেন ফারাক্কা। কিন্তু বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজ্যপালের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
গত রবিবার রাজভবন গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র রাজভবন গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরেই জানা যায় রাজ্যপালের বোলপুর সফরের জন্য হেলিকপ্টার বরাদ্দ করেছে রাজ্য। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতা করতে আসবেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। ঠিক তার একদিন আগেই তার বোলপুর সফর। তাই বাজেটের দিন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কোনও গোলমাল চাইছে না তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার।
সম্প্রতি কেরল বিধানসভায় রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের বক্তৃতা শেষে তিনি দাবি করেছিলেন, এই বক্তৃতা তাঁকে রাজ্য সরকার পড়তে বলে ছিলেন। তাই তিনি পাঠ করেছেন। এই বাজেট বক্তৃতার সঙ্গে তাঁর মতামতের মিল নেই। তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল জাতীয় রাজনীতিতে। বাংলা রাজনৈতিক মহল মনে করছে সেই পরিস্থিতি কোনওভাবেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে না হয় সেই ব্যবস্থাই করছে রাজ্য সরকার। তাতেই হেলিকপ্টার বরাদ্দ হয়েছে রাজ্যপালের জন্য।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news