চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। পূর্ব লাদাখে প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে সীমান্ত বরাবর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের সেনাবাহিনী। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েও চলছে আলোচনা।
চীনের এই ভূমিকা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিকদের দাবি, ১৯৬২ সালের পর থেকে চীন ক্রমশ ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে চলেছে। এর আগে চীনের সঙ্গে আলোচনার জন্য লাদাখ সেক্টরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন বিদেশ সচিব সাম সরণ। ২০১৩ সালে ওই সফর নিয়ে তিনি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বেশ কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৬৪০ কিমি জায়গা দখল করেছে চীন। এমনকি এই অঞ্চলে প্রবেশের জন্য রাস্তাঘাট, সেতু এবং একটি এয়ার স্ট্রিপও তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন।
আবার অনেকে মনে করছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের নজর ঘোরাতেই লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে চীন। কারণ বিশ্বের অনেক দেশই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করছে। অনেকে আবার চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে এর জন্য দায়ী করেছেন। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব চীনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে চীনের অর্থনীতি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আর দেশবাসীকে সেই দিক থেকে নজর ঘুরিয়ে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়াস করছে শি জিনফিংয়ের সরকার। তবে ২০১৪ সালে ডোকালাম সংঘাতের পর এটিই ভারত ও চীন সম্পর্কের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা।
প্রসঙ্গত, ৫ মে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রথম হাতাহাতি হয়। ওই সংঘাতে দুই দেশের কিছু সেনা আহত হন। তারপর থেকেই উত্তেজনা ক্রমশ চড়ছে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে। বর্তমানে উভয়েই সীমান্তের দু’দিকে বিশাল সেনা মোতায়েন করেছে। শুক্রবার সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবনে লাদাখ সীমান্ত পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা করেন। তার আগে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয় জাতীয় নিরাপত্তা অজিত ডোভাল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news