মূল রচনা: হরিশঙ্কর পরসাই
অনুবাদ: পার্থসারথি পাণ্ডা
নতুন একটা কারখানা চালু হল। অমনি কাজের জন্য দলে দলে দেশের লোক সেখানে আসতে শুরু করল। তাদের থাকার জন্য বস্তিও গড়ে উঠল। ঠাকুরপুরার ঠাকুর, ব্রাহ্মণপুরার পণ্ডিতও সেই বস্তিতে এসে জুটলেন। কারখানায় একসঙ্গে কাজ করতে লাগলেন এবং পাশাপাশি ব্লকে থাকতে শুরু করলেন।
ঠাকুরের জোয়ান ছেলে আর পণ্ডিতের ডাগর মেয়ে। অল্পক্ষণেই দুজনের আলাপ হল। দিন দুয়েকেই আলাপ জমে উঠল। কয়েকদিনেই সেই আলাপ জমতে জমতে এতদূর গড়াল যে, দুজনেই বিয়ের কথা ভাবতে বাধ্য হল।
বাড়িতে বিয়ের কথাটা পাড়তেই পণ্ডিত একেবারে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন—এ হয় না, হতে পারে না! তোমার এতবড় সাহস, বামুনের মেয়ে হয়ে ঠাকুরের ছেলেকে বিয়ে করবে! তুমি ভাবলে কী করে, তোমার জন্য জাত কুল সব জলাঞ্জলি দেব!
বাড়িতে শুরু হয়ে গেল মহাঅশান্তি।
তখন পণ্ডিতের এক বন্ধু তাঁকে বোঝাতে গেল, শোনো পণ্ডিত, ছেলেমেয়ে দুটো বড় হয়েছে, পড়াশুনো শিখেছে, বুঝতে শিখেছে। বিয়েটা দিয়েই দাও, বুঝলে। যদি বিয়ে না দাও, তাহলে ওরা লুকিয়ে চুরিয়ে দেখা করবেই, সে তুমি আটকাতে পারবে না! তখন ওরা যেটা করবে, সেটা হবে নেহাতই নষ্টামি!
এ-কথায় পণ্ডিত একেবারে ঝাঁঝিয়ে ওঠেন, ‘হলে হবে। নষ্টামি করলে জাত যায় না, বিয়ে করলেই জাত যায়!’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news