নিজস্ব সংবাদদাতা:
বর্তমান ভারতে ভোটের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অনেকের থেকে এগিয়ে তার প্রমাণ তিনি আগেও দিয়েছেন। কীভাবে সঠিক সময় সঠিক কথাটা বলতে হয়, তা থেকে তাঁর দলের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটব্যাংক বাড়ানো যায় তা মমতার মতো করে খুব কম রাজনীতিবিদই বোঝেন। সে কথাই ফের প্রমাণ হল গুজরাতের হিন্দিভাষি শ্রমিকদের ঘরে ফেরা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যের বিহারি তথা হিন্দিভাষিদের আবেগের পাশে দাঁড়াতে ভুল করলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘উদ্বিগ্ন’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, ‘একজন যদি দোষী হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। সেখানে ওরা অনেক মানুষকে চলে যেতে বলছে এটা ঠিক না।’ এই প্রসঙ্গে ফের মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বিজেপিকে দোষী ঠাওরেছেন। অথচ গুজরাত থেকে প্রায় ৫০ হাজার হিন্দিভাষি শ্রমিকের ঘরের ফেরার সঙ্গে দল বিজেপি বা মোদীর রাজ্যের সরকারের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং অভিযোগ, এই ঘটনায় বিহারি হঠাও স্লোগান তুলে গুজরাতিদের ক্ষেপিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অল্পেশ ঠাকোর তথা তাঁর ‘গুজরাট ক্ষত্রিয় ঠাকোর সেনা।’ তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন কেন, ‘ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।’ বললেন কেন ‘ওরা দেশটাকে ভেঙে ফেলতে চাইছে। ওরা ভুলে গেছে ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল।’ বললেন এই জন্যে যে আগামী লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নয়, বিজেপিই তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ। এমনকী পরবর্তী বিধানসভা ভোটে মোদীর দলই যে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চলেছে সেও মমতার অজানা নয়। অতএব ২০১৯-এর আগে রাজ্যের হিন্দিভাষিদের আবেগের মর্জাদা না দিলেই নয়। অতএব তাঁকে বলতে হল, ‘কলকাতায় ভিন্ন ধরনের অনেক মানুষ আছে। সেক্ষেত্রে কেউ যদি কোনও অন্যায় কাজ করে তাহলে সবাইকে চলে যেতে বলব? এটা ভয়ঙ্কর ব্যবস্থা চলছে।’
উল্লেখ্য, গুজরাতে এক নাবালিকার ধর্ষণকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজিত হয় জনতা। তারপর সেই উত্তেজনায় নুনের ছিটে দিয়েছে অল্পেশের মতো কেউ কেউ। পুলিশ ইতিমধ্যে হিন্দিভাষি শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগে ৪৬০জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পুলিশের ব্যর্থতা এইখানে, যে একাধিক গ্রেপ্তারি হলেও এখনও অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রশাসন। তবে তল্লাশি চলছে জোরকদমে। এবং এও সত্যি, যে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা শ্রমিকেরা ভয় পেয়েছেন। গুজরাতে তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। না হলে কেন গাঁধীনগর, আমেদাবাদ, পাটানা, শেহসানা, সরবকণ্ঠ থেকে এভাবে রুজি রোজগার ফেলে তাঁরা দেশে ফিরবেন! যদিও একটি মহলের মত, সকলেই হামলার ভয়ে পালাচ্ছেন না। অনেকেই পার্বণের মরসুমে বাড়িতে ছুটি কাটাতে ফিরছেন। সামনে দুর্গাপুজো, ছট পুজো ইত্যাদি তাই।
সে যাই হোক, আসল কথা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের রাজনীতি ভালো বোঝেন বলেই নতুন গুজরাত ইস্যুতে মুখ খুলতে দেরি করেননি। আজ তিনি বলেন, ‘সবার এক হওয়া দরকার। না হলে সমস্যা হবে।’
কিন্তু হায়, যে গরিব শ্রমিক দুবেলা দুমুঠোর জন্য নিজের দেশ গ্রাম ছেড়ে গুজরাতে পড়েছিল। আজ যাকে দেশে ফিরতেই হচ্ছে। তার সমস্যা, তার সঙ্কট কে বোঝে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news