নীল রায় ও সূর্য সরকার।
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) ও রাজ্য সরকারের সংঘাতের চরম নিদর্শন হয়ে থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বন্ধ প্রবেশদ্বারের বাইরে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড় জানিয়ে দিলেন, তিনি যা করছেন তা সাংবিধানিক গন্ডিতে থেকেই করছেন এবং তারই কাজকর্ম অব্যাহত থাকবে। অসহযোগিতার কথা জানাতে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে রাজ্যপাল বলেন, “আমি কি এবার ‘ দিদি কে বলো’-তে ফোন করে অভিযোগ জানাব ?”
পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভার আজকের ঘটনায় যে রাজ্যপাল পদকে যেভাবে অসম্মান করা হয়েছে, তাতেও তিনি ব্যথিত। যা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয় বলেই মনে করছেন রাজ্যপাল।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা বেজে ৩২ মিনিটে বিধানসভার তিন নম্বর গেটে এসে থামল রাজ্যপালের কনভয়। কোনও প্রটোকল নয়, কনভেনশন অর্থাৎ প্রথা অনুযায়ী তিন নম্বর প্রবেশদ্বার রাজ্যপালের জন্যই নির্দিষ্ট থাকে। এর আগে সংবিধান দিবসের দিন তিন নম্বর গেট দিয়েই বিধানসভা প্রবেশ করেছিলেন তিনি। সেই জায়গা থেকে আজ বন্ধ ছিল তিন নম্বর প্রবেশ দ্বার। রাজ্যপাল গাড়ি থেকে নামলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের ভিড়ে সেই সময় কার্যত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যপালের সামনে। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রথমে রাজ্যপাল। বুধবারে রাজ্যপাল ও রাজভবনের মধ্যে তাঁর আগমন নিয়ে কী কী ঘটেছে তার নিয়ে কথা বলেন তিনি। রাজ্যপালের কথায়, ” গতকাল রাজভবনের তরফে আমার আশার কথা জানিয়ে বিধানসভা সচিবালয় চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অধ্যক্ষের সম্মতি নিয়ে বিধানসভার সচিব আমার স্পেশাল সেক্রেটারিকে ফোন করে জানান যে আজ অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে সারবেন। পাশাপাশি আমার স্ত্রীকেও তিনি বিধানসভা আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।” রাজ্যপাল আরও বলেন, “কিন্তু দেড় ঘণ্টা পরেই ঠিক পরিস্থিতি বদলে যায়। বিধানসভার তরফের সচিব রাজ্যপালের স্পেশাল সেক্রেটারিকে ফোন করে জানিয়ে দেন রাজ্য বিধানসভা চলছে না ফলে অধ্যক্ষ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের প্রশ্ন, অধ্যক্ষের প্রথম উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত হয়েছিলাম। সেটাই গণতন্ত্রের পক্ষে কাম্য। কিন্তু হঠাৎ করে কেন ফের চিত্র পাল্টে গেল তা বুঝলাম না। ”
এক দফায় সাংবাদিক বৈঠক করে দশটা বেজে ৫০ মিনিটে বিধানসভার দু’নম্বর প্রবেশ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করলেন রাজ্যপাল। ছিলেন মিনিট ১৫-২০ । ১১টা বেজে ২০ মিনিটে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এবার সাংবাদিক বৈঠকে আরও কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন জগদীপ ধনখড়। বুঝিয়ে দিলেন তিনি যা করছেন তা ঠিক করছেন এবং আবারও করবেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের এই ভূমিকার জন্য যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, “আজ আমাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বিধানসভায় কেউ উপস্থিত ছিল না। আমাকে কোন আধিকারিক এর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হলো না। বিধানসভার চলছে অথচ সচিবালয় কোন আধিকারিক নেই এটা কাম্য নয়।” সঙ্গে তাঁর আরও সংযোজন, “আজ আমাকে নয়।রাজ্যপালের সঙ্গে গণতন্ত্রকে বাংলার মানুষকে অপমান করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রাজ্যপাল প্রচ্ছন্নভাবে বুঝিয়ে দিলেন তার সাংবিধানিক ক্ষমতার কথা। বললেন, এটা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে না। আমার কাছেও কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সেটা প্রয়োগ করার আগে আমি সরকারকে বোঝাবো।আমি বারবার বলছি প্রথম দিন থেকেই আমি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করি কাজ করতে চাই।”
রাজ্যপাল বলেন, “আমি বুলবুল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাব। রাজ্যের সব প্রান্তে যাব আমি সব বিশ্ববিদ্যালয় যাব। যদি কোনও চক্রান্ত হয় সেই চক্রান্ত আমি ভেঙে দেব।
একটা উদাহরণ দেওয়া হোক যেখানে আমি ভুল করেছি।” এরই মাঝে বিধানসভার গেটে এসে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। সেখানে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন রাজ্যপাল। এরপর আবার সংবাদধ্যামের বিধানসভা অধিবেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ” যে বিল রয়েছে রাজভবনে সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় আইন রয়েছে লিঞ্চিং বিলের ক্ষেত্রে গোটা বিরোধী পক্ষ আমার কাছে এসেছিল। যে বিল আমার কাছে পাঠানো হয়েছিল তা সভায় পাস করা হয়নি” তবে এদিনের অসহযোগিতা নিয়েই বেশি সরব ছিলেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, “আজকের এই ঘটনা নিয়ে আমি অধ্যক্ষকে চিঠি লিখব আমি এখনও এক সঙ্গে কাজ করতে চাই । মুখ্যমন্ত্রী বা অধ্যক্ষ রাজভবনে গেলে কখন এই আচরণ করা হবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে বৃহস্পতিবার বিধানসভার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন।ভারতবর্ষের ইতিহাসে কোন রাজ্য কালকে বিধানসভায় ঢুকতে দেওয়া হলো না কিংবা তাকে অভ্যর্থনা জানানো হলো না যে ঘটনা ঘটেছে তার কোন নিদর্শন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের যে সংকট চলছে সেই সংঘাত এদিনের এই ঘটনায় কার্যত তিক্ততার শীর্ষে পৌঁছালো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news