নিজস্ব সংবাদদাতা।
যাদবপুর ক্যাম্পাসে টানা পাঁচ ঘন্টা ধরে সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র আটকে থাকার পর রাজ্যপাল নিজে গিয়ে তাঁকে কার্যত উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবারের এই নজিরবিহীন ঘটনাকে রাজ্যপালের তথাকথিত উদ্ধারকার্য বলে ব্যখ্যা করল তৃণমূল। একটি প্রেস বিবৃতিতে দলের এই মনোভাবের কথাই ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে তিনি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীও বটে।

তৃণমূলের দাবি, রাজ্যপাল, যিনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, তিনি সরকারের ওপর ভরসা না করে বাবুল সুপ্রিয়কে ‘উদ্ধার’ করতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পৌঁছে যান।
পার্থ তাঁর বিবৃতিতে লিখেছেন, যাওয়ার পথে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে জানান তাঁর সিদ্ধান্তের কথা। পার্থর দাবি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে রাজ্যপাল যাদবপুরে পৌঁছন। অবস্থা নিমন্ত্রণে আনার সময়টুকু তিনি সরকারকে দেন নি। রাজ্যপালের প্রতি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও আনা হয়েছে এই বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, “আমরা রাজ্যপালের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর সমালোচনা করছি।” বলা হয়েছে, যে ঘটনা হয়েছে তা নিতান্তই বিজেপির ছাত্র সংগঠন ও বামপন্থী ছাত্রদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের কোনও ভূমিকা নেই।
দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি? তৃণমূলের বক্তব্য গেটের বাইরে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ার কারনে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি।
তৃণমূলের বক্তব্য, রাজ্যপাল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা বললেও এই ঘটনা তা প্রমাণ করে না। কারন পুলিশ ছিল কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না পেয়ে তারা কিছু করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত পুলিশ প্রবেশ নিষিদ্ধ।
প্রসঙ্গত, এদিন দুপুরে এবিভিপি নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আসেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। প্রথমে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো ও পরে “গো ব্যাক” শ্লোগান দিতে থাকেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। পরে বাবুল সুপ্রিয়কে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হলে তৎপর হয় রাজভবন। পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণে না এলে রাজভবন থেকে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড়। এমন ঘটনা বাংলার গণতন্ত্রের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়, ঘটনার পর এমনটাই আলোচনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। সেই আলোচনায় না পছন্দ তৃণমূল নেতৃত্বের। ফলস্বরূপ তারা রাজ্যপাল সক্রিয় ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা রাজ্যপালকে ‘পদ্মপাল’ বলেও আক্রমণ করতে শুরু করেছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news