সূর্য সরকার।
স্টাফ সিলেকশন কমিশন পুনরুজ্জীবন সংক্রান্ত বিল নিয়ে আইনি জটিলতার জেরে মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্টাফ সিলেকশন কমিশন সংক্রান্ত বিল পেশ করেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নিল সরকার পক্ষ।বিরোধীরা এই আইনি জটিলতা এবং বিলের কপিতে কিছু ভাষাগত সমস্যার দাবি তুলেছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট বিল নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করে তারা। সেই দাবি মেনে নিয়ে স্টাফ সিলেকশন কমিশন বিলের আলোচনা বৃহস্পতিবার মাঝপথেই স্থগিত করে দিল সরকার। যার জেরে সরকারের মুখ পুড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যে প্রশ্ন উঠেছে তার সমাধান না বেরলে আপাতত ওই বিল আইনের মুখে দেখবে না। এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিন বিধানসভায় বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপরই বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, কংগ্রেসের বিধায়ক অসিত মিত্র, বাম বিধায়ক প্রদীপ সাহা বিলের আইনি জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘এই কমিশন তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের কোনও আর্থিক দায়ভার নেই ‘, এই লাইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা চলাকালীনই বিরোধীদের দাবি নিয়ে তৎপর হন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার পক্ষকে বিলের জটিলতা নিয়ে ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। তারপর অধ্যক্ষের অনুরোধে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই বিলে অনেক আইনী দিক আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে, তাই আরও আলোচনার প্রয়োজন।” তারপরই অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন, এই বিল নিয়ে ফের আগামী ৩ সেপ্টেম্বর আলোচনা হবে। যেখানে আলোচনা শেষ হয়েছে সেখান থেকেই শুরু হবে আলোচনা।
সূত্রের খবর বুধবার সন্ধ্যায় স্পিকার আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে ফোন করে বিলটিতে আইনগত ত্রুটি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিলে দ্রুত সংশোধনী এনে তা বিধানসভার পেশ করার কথা বলেছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে তড়িঘড়ি আইন দফতরকে বিষয়টি দেখতে বলে একটি পথ বের করে মন্ত্রী মলয় ঘটক। সংশোধনীটি তিনি হোয়াটসঅ্যাপে স্পিকারকে পাঠিয়ে দেন। অথচ সংশোধনীর কোন হার্ডকপি এদিন দুপুর পর্যন্ত বিধানসভায় কোন পক্ষের কাছেই ছিল না। বিল যখন বিধানসভায় দুপুর দুটো নাগাদ পেশ করা হয়। তখন তড়িঘড়ি বিধানসভার বিল সংক্রান্ত দপ্তর থেকে সংশোধনীটি পাঠানো হয়। কিন্তু বিলে যে আর্থিক দিকের বিষয়টি বিরোধীরা তুলেছিলেন, তা যুক্তিযুক্ত হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা স্পিকারের পরামর্শে বাতিল করে দেয় সরকারপক্ষ।
সমস্যার ক্ষেত্রে আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে।বিলটি নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল গত বুধবার বি এ কমিটির বৈঠকেই। বৈঠক বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের তরফে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তড়িঘড়ি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বুধবার বিকেল ৫টা অব্দি সেই বিল বিধানসভায় বিলি করা হয়নি। নিয়মানুসারে কোনও বিল আসতে হলে তা অন্তত তিনদিন আগে বিধানসভায় সব পক্ষের কাছে বিলি করতে হয়। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি। ফলে তড়িঘড়ি পাস করানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে বিলের ভিতরের আইনি জটিলতা সরকারের চোখ এড়িয়ে গেছিল বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির। তাঁরাও হাতে গরম ইস্যু পেয়ে সরকারের সমালোচনা করতে ছাড়েনি। বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেছেন, “আমরা এটা বোঝাতে পেরেছি যে বিলে বেআইনি বিষয় ছিল। সরকার দেখেছে পরে মুখে চুনকালি হবে তাই বেগতিক বুঝে বিল আপাতত স্থগিত করে আরও আলোচনার পথ খোলা রাখল।”
এমনকি বিলের আলোচনা বন্ধ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নৈতিক অনুমোদনের জন্য পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ফোনে করে সব বুঝিয়ে বলেছেন বলেও খবর। খোদ পার্থ চট্টোপাধ্যায় আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে এমন ‘অস্বস্তিকর পরিস্থিতি’র জন্য বকাঝকা করেছেন বলেও শাসক দল সূত্রের খবর।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news