Breaking News
Home / TRENDING / রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টাকায় হাত, প্রচারের উল্টো পিঠ

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টাকায় হাত, প্রচারের উল্টো পিঠ

চিরজিত পাল:

 

কেন্দ্রীয় সরকার আরবিআই এর জমানো অর্থ দেশের কাজে লাগাতে চায়। যা নিয়ে আরবিআই একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছে। তাতে আরবিআইয়ের তরফে বলা হয়েছে, আমরা একটা পরিস্থিতি গত কয়েক বছর ধরেই দেখছি, সরকার দাবি করছে যে, আরবিআই-এর কাছে অনেক উদ্বৃত্ত টাকা আছে। যেটা দেশের কাজে লাগতে পারে, তাই আরবিআই-এর উচিত টাকাটা সরকারকে ডিভিডেন্ট (dividend) হিসেবে দিয়ে দেওয়া।

 

তবে আরবিআই-এর গভর্নর এবং কিছু অর্থনীতিবিদদের মতে, এই টাকায় হাত দেওয়া উচিত নয় কারণ এটা অসময়ের জন্য দেশের সঞ্চয় (national savings for the rainy day) সম্প্রতি মোদী সরকার প্রাক্তন আরবিআই গভর্নর বিমল জালানের নেতৃত্বে যে কমিটি গড়েছিলেন এই বিষয়ে একটা দিশা দেখানোর জন্যে, তার রিপোর্ট জমা পড়েছে এবং সেই রিপোর্ট আরবিআই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেযার ফলে লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা আরবিআই সরকারকে দেশের কাজে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়েছে। 

 

এই নিয়ে সংবাদমাধ্যম এবং রাজনীতির আঙিনা এখন উত্তাল। অনেকেই অনেক কথা বলছে, যার  কিছু ঠিক, কিছু ভুল, আবার কিছু দুর্বোদ্ধ। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে আমার চেষ্টা হবে যারা অর্থনীতির মারপেঁচ অতটা বোঝেন না তাদের জন্যে বিষয়টা সহজ করে দেওয়া।

 

এই বিষয়টা বুঝতে গেলে আমাদের প্রথমেই বুঝতে হবে আরবিআই-এর ব্যালেন্স শিট (balance sheet) আর একটা সাধারণ বাণিজ্যিক সংস্থার ব্যালেন্স শিট (balance sheet)-এর মধ্যে পার্থক্য কোথায় এবং কেন। ব্যালেন্স শিট অনুযায়ী, যে কোনো ব্যালেন্স শিট-এর বাঁ দিকে থাকে দায় (liabilities), আর ডান দিকে থাকে সম্পদ (asset) 

 

বাণিজ্যিক সংস্থার দায় হল তার ইস্যু করা শেয়ারএর ফেস ভ্যালু (face-value), তার পুঞ্জীভূত আয় (accumulated income) যেটা এখনও মালিকদের (shareholder) মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়নি, ব্যাঙ্ক বা অন্যান্য সংস্থার থেকে নেওয়া ঋণ (loans), আর অন্যান্য সাধারণ দায় (current liabilities) আবার বাণিজ্যিক সংস্থার সম্পদ হল সমস্ত স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি (fixed assets), ব্যাঙ্ক জমানো টাকা, অনান্য বিনিয়োগ (investments), আর অন্যান্য সাধারণ সম্পদ (current assets) 

 

আরবিআই-এর ব্যালেন্স শিট (balance sheet)-টা একটু অন্য রকম। আরবিআই-এর দায় হল দেশে যত নোট ছাপা হয়েছে (in circulation), তার মূল্য। তার সাথে আছে revaluation reserve (বিনিয়োগের বাজারমূল্য (market value of investments) কমাবাড়া ফলে যে উদ্বৃত্ত তৈরী হয়), পুঞ্জীভূত আয় (accumulated income),আর অন্যান্য সাধারণ দায় (current liabilities) 

 

আরবিআই-এর সম্পদ (asset) হল ইন সার্কুলেশন (in-circulation) নোটমূল্যের আনুপাতিক সোনা (gold), ভারত সরকারএর বন্ড (bond), বিদেশী সরকারী বন্ড (bond), অন্যান্য সাধারণ সম্পদ (current assets) 

 

অন্যদিকে আরবিআইয়ের আয় কিভাবে হয় তাও ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, যে আরবিআই তো বাণিজ্যিক সংস্থা নয়, তাহলে তার আয় (income) কি থেকে হয়? এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আরবিআই-এর আয় হয় বিনিয়োগএর সুদ থেকে (interest and dividends) আর Open-Market-Operations থেকে। Open-Market-Operations হল সরকারি বন্ড (bond) খোলা বাজারে কেনাবেচা করা। আরবিআই মূলত এটা করে দেশে ব্যাঙ্কিং সিস্টেম (banking system)-এর liquidity control করার জন্যে। তার মানে ব্যাঙ্ক গুলোর হাতে ঋণ দেবার মতন কত টাকা থাকবে সেটা এই ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  

 

অর্থনীতিবিদদের আরও প্রশ্ন, আরবিআই-এর কাছে সরকার কোন টাকাটা চেয়েছে? আরবিআই এর উত্তরে বলে, আরবিএই-এর পুঞ্জীভূত আয় (retained earnings) আর revaluation reserve-এর একটা অংশ সরকার চেয়েছে কেন চেয়েছে? কারণ সরকারের মনে হয়েছে যে রেনি ডে (rainy day)- জন্য যে পরিমান সঞ্চয় থাকা প্রয়োজন তার থেকে অনেক বেশি টাকা আরবিআই-এর ব্যালেন্স শিট (balance sheet)- রয়েছে, আর এই টাকাটা কোনো সরকারি কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু কতটা সঞ্চয় যথেষ্ট সেই ব্যাপারে কোনো আইন বা নির্দেশিকা না থাকার ফলে এই নিয়ে মতবিরোধ এবং বিভ্রান্ত দুই বাড়ে। মোদী সরকার তাই এই বিষয়ে একটা নির্দেশিকা তৈরী করার জন্যে একটা কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি সম্প্রতি তার রিপোর্ট জমা দিয়েছে – ‘Bimal Jalan committee report on Economic Capital Framework’ 

 

কমিটির রিপোর্ট বলছে, আরবিআই-এর ব্যালেন্স শিট (balance sheet)-এর .% থেকে .% রেখে দেওয়া উচিত Contingency Risk Buffer (কোনো অপরিকল্পিত ঝুঁকির জন্যে সঞ্চয়) হিসেবে। বাকিটা উদ্বৃত্ব হিসেবে ধরা উচিত। সেই হিসেব মতন RBI সরকারকে লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছে। 

 

এই টাকা কি মোদী সরকার প্রথম চাইল? একেবারেই নয়। মনমোহন সিংহ যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সেই সময়কার আরবিআই গভর্নর ওয়াই ভি রেড্ডি জানিয়েছেন যে, সরকারের ঋণ মকুবএর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্যে এই টাকা চাওয়া হয়, এবং সেটা দেওয়াও হয় (যদিও তার পরিমান এতটা চমকপ্রদ ছিল না)।

 

আরও প্রশ্ন উঠছে, এই টাকাটা কি প্রতি বছরই পাওয়া যেতে পারে? নিশ্চই, কিন্তু অঙ্কটা প্রতি বছর কম-বাড়া করতে পারে।

 

এই টাকাটা নিয়ে সরকার কি করতে পারে? এই টাকাটা নিয়ে সরকার জিএসটি কালেকশন ডেফিসিট (collection deficit) পূরণ করতে পারে। এর ফলে রাজস্ব ঘাটতি (fiscal deficit) কমানো সম্ভব হবে যা মুদ্রাস্ফীতি (inflation) কম রাখতে সাহায্য করবে। মনে রাখতে হবে এই বিষয়ে মোদী সরকারএর আগ্রহ অন্য সরকারগুলোর থেকে বেশী। 

 

সরকার এই টাকাটা ব্যাঙ্কগুলোকে দিতে পারে যাতে তারা শিল্প প্রকল্পে ঋণ দিতে পারেন। এর ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এছাড়া সরকার এই টাকা পরিকাঠামো উন্নয়ন খরচ করতে পারে। তাতেও দেশবাসীর উপার্জন বাড়বে, আর অর্থনীতিতে চাহিদা (demand) বাড়বে।

 

অর্থনীতিবিদদের দাবি, দেশে এখন একটা মন্দার পরিস্থিতি চলছে, তাই যদি হয় তাহলে এটাকে ‘rainy day’ হিসেবে ধরা যেতেই পারে, আর তা হলে ‘rainy day’ ফান্ড ব্যবহার করার মধ্যে অন্যায় থাকবে কেন? একটু ভেবে দেখতে পারেন।

 

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *