Breaking News
Home / TRENDING / গো-বলয়ে ভোট: অনুপান, পারসেপশন ও দামোদর শেঠ

গো-বলয়ে ভোট: অনুপান, পারসেপশন ও দামোদর শেঠ

 দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:

কথা হচ্ছিল অমিত শাহের সঙ্গে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। নোটবন্দি বা জিএসটির মত আপাতভাবে জনমোহিনী নয় এমন প্রকল্প গ্রহন করে তারা যে কত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছেন তা বোঝাবার চেষ্টা করছিলেন অমিত। একই সঙ্গে আক্ষেপ করছিলেন দেশের সিংহভাগ সমবাদমাধ্যম তাঁদের পাশে নেই। নির্বাচনী রাজনীতিতে অমিত শাহ চাণক্যই হোন আর যাই হোন না কেন, তাঁকে যারা জানে তারা জানে অমিত একজন রসিক (বলা ভাল রগুড়ে) আড্ডাবাজ।
সেদিনের আড্ডায় মোট তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছিল।
১) নোটবন্দির মত প্রকল্পের চাপ বিজেপির মাথায় সাইজে ছোট হেলমেটের মত চেপে বসে আছে।
২) সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা সঙ্গে চেয়েও পাচ্ছেন না।
৩) এত কিছুর পরেও আত্মপ্রত্যয়।
শেষোক্তটি শুনতে বেশ ভাল হলেও বিষয়টি খুব গোলমেলে। কবিরাজী ওষুধের মত। পরিমাপ কম হলে কাজ হবে না আবার বেশি হলে হিতে বিপরীত। সে কথা বলতে বলতেই আলোচনা এগোনো যাক। একবার ছুঁয়ে নেওয়া যাক সদ্য ফল বেরনো গো-বলয়ের বিধানসভা নির্বাচনের খবর।
রাজস্থানের পরাজয় বা মধ্যপ্রদেশের ফলাফলের থেকেও সঙ্ঘ ও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবাচ্ছে ছত্তীসগঢ়ে তলানিতে ঠেকা প্রাপ্ত ভোট। রমন সিংহের অতি ঘনিষ্ঠ একজন সাংবাদিক বন্ধুর থেকে জানা গেল রমন নিজেও জানতেন এমনটাই হবে। তিনি রাজ্যের উন্নয়ন করেছেন যথেষ্ট। তবে উন্নয়ন নামক ঝকঝকে, স্বাস্থ্যবান যুবার হাত ধরে যে মায়াবীনি পায়ে পা মিলিয়ে পথ হাঁটে সে হল দুর্নীতি। রমনের মন্ত্রীসভাকে সে মাতিয়ে রেখেছিল। উন্নয়ন গা সওয়া হয়ে যাওয়ার পর ছত্তীসগঢ়ীরা চাইছিলেন টাটকা বাতাস। কেউ কেউ বলছেন ওখানকার মাওবাদীরা কংগ্রেসের দিকে ঢলেছে। তবে মাওবাদী প্রভাব মাত্র কয়েকটি কেন্দ্রে। এখন পর্যন্ত যেটুকু ছানবিন করা সম্ভব হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে মায়াবী পিশাচিনি রমনের মন্ত্রী মহোদয়দের ঘাড়ে চেপে ছিল সেই কুহকিনীই ছত্তীসগঢ়ে ভেজেছে বিজেপির সাড়ে বত্রিশ ভাজা। মাওবাদীদের ভূমিকা থাকতেই পারে, অপেক্ষাকৃত দুর্বলতর দল হিসেবে, তাদের কংগ্রেসকে সাহায্য করা, থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাই সব না। এক্ষেত্রেও সেই আত্মপ্রত্যয়ের অনুপান বেশি হয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা যদি সত্যিই সেখানে মাথাব্যথার কারন হয়ে থাকে তাহলে মাওবাদীমুক্ত ছত্তীসগঢ় না করেই কেন ভারভারা রাওদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হল বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে!
রাজস্থান বিজেপির হিসেবে ছিল না। কয়েকদিন আগে কলকাতায় বিজেপির অফিসে এসে সেখানকার কয়েকজন মাঝারি স্তরের নেতা একমুখ হেসে বলে গেলেন তাঁরা রাজস্থানে হারছেন। প্রকাশ্যে না বললেও মুখ্যমন্ত্রী তথা রাণী বসুন্ধরার সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের চাপা বিরোধ শুরু হয়েছে অনেকদিন আগে থেকেই। দল তো বটেই তদুপরি সঙ্ঘকে ছাড়িয়ে ওঠা কোনও অস্তিত্বই বিজেপিতে কাম্য নয়। তবু অমিত শাহ বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে বসুন্ধরার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ছিলেন। দলের নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে রাণীর ‘আভিজাত্য’কে সম্ভবত বাঁধতে চেয়ে ছিলেন অমিত। তাঁর এই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছিল কিনা তা নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি। তবে এসব জানা-না জানার বাইরে আবার মাথা তুলেছেন গেহলট-শচীন। রাজস্থানে ১৯৯৮ সাল থেকে চলে আসা পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদলের ঐতিহ্য মেনে এবারও সরকার বদল হচ্ছে পুষ্কর ও আজমেঢ় শরিফের দেশে।
মধ্যপ্রদেশে পনের বছর একটানা সরকার চালানোর পর প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা মাথা চাড়া দেওয়াই স্বাভাবিক। দিয়েওছে। তা সত্ত্বেও শিবরাজ-বিজয়বর্গীয়রা যেখানে ইনিংস শেষ করেছেন তা যে কোনও সরকারের কাছে ঈর্ষার বিষয়। (অবশ্য রক্তাক্ত, হিংসাশ্রয়ী, খুন, জখম, হাত কাটা, মহিলা নিধন, ভয়ের পরিমণ্ডল তৈরি করা নির্বাচন যেখানে হয় তাদের ঈর্ষান্বিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।) তার ওপর বিক্ষুব্ধ প্রার্থীর ভোট কেটে নেওয়া নর্মদার রাজ্যে বিজেপিকে সমস্যায় ফেলেছে। বিজেপির বহু প্রার্থী হেরেছেন সামান্য ভোটের ব্যবধানে। মোটের ওপর পনের বছর ক্ষমতায় থাকার পরও বিজেপির এই ফলাফল খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন না কোনও ভোট বিশেষজ্ঞও।
তাহলে? তাহলে চাপ কি?
চাপ হল ধারণায়। চাপ হল পারসেপসনে। রাজনীতি নিয়ে তলিয়ে ভাবার বা খতিয়ে দেখার দায় সাধারণ মানুষের নেই। তাঁরা চট জলদি বুঝে যাবেন মোদি হারছে বা মোদি ম্যাজিক শেষ। এরপর আরও কোনও বড় ঘটনা সামনে এলে এই নির্বাচনের কথা তাঁরা ভুলেও যাবেন। যাঁরা রাজনৈতিক সংবাদে অধিক আগ্রহ রাখেন তাঁদের পারসেপসন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন মহল। তারা নিরন্তর চেষ্টা করবে। এইসব মহলের কেউ কেউ আড়ালে থাকেন। রাজধানীর পাঁচতারা কফিসপে বসে ঠিক করতে চান দেশটা কোন পথে চলবে। কেউ আবার সন্ধেবেলা রাহুলের বাড়ি কফি খেতেও যান। মোদির সঙ্গে এই মহলের কোনও লেনাদেনা নেই। ১০ জনপথে যেমন এঁদের গুরুত্ব আছে, মোদি-শাহের কাছে এঁদের নম্বর নেই। এঁরা দেশের সংবাদমাধ্যমগুলিকে বৌদ্ধিক ভাবে নিমন্ত্রণ করেন, কেউ কেউ আবার সরাসরি যুক্ত। দেশের ইন্টেলেকচুয়াল সেটআপ এঁরা তৈরি করে দিতে চান। এঁদের মোকাবিলা সঙ্ঘ-বিজেপি করবে কিনা বা করলে কিভাবে করবে তা তাদের ব্যাপার।
তবে রাহুল গাঁধী বুঝিয়ে দিলেন তাঁকে আর যে নামেই ডাকা হোক না কেন, তিনি আর যেই হোন, তিনি দামোদর শেঠ নন। তিনি অল্পেই খুশি হন।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *