Breaking News
Home / TRENDING / মোদি বিরোধী গঠবন্ধনের বাঁধন কি আলগা? উত্তর আপাতত উত্তরপ্রদেশে

মোদি বিরোধী গঠবন্ধনের বাঁধন কি আলগা? উত্তর আপাতত উত্তরপ্রদেশে

নীল রায়:

সনিয়া গাঁধীর বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে থাকেন তিনি। যিদি মূলতঃ সনিয়ার বিরোধিতা করে এক সময় কংগ্রেস থেকে নিজের জীবনব্যাপি দুরত্ব তৈরি করেছিলেন…
সেই শরদ পাওয়ারের ৬ জনপথ রোডের বাড়িতে ভ্যালেনটাইনস ইভে ঘরোয়া আড্ডা দিলেন এই মুহুর্তে দেশের মোদি বিরেধী ব্রিগেড। রাজনীতির কারবারীদের আড্ডা সাধারণত বৈঠকেরই নামান্তর। একে একে বৈঠকে যোগ দিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিবাল, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুখ আবদুল্লাহ এবং অবশ্যই তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হলে কী হবে! বৈঠকে দীপ, শিখা সবই থাকলেও শুধুমাত্র তাঁরা এলেন না বলে আলো জ্বলল না! তাঁরা মানে রাজনৈতিক ভাবে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশের দুই প্রধান দল সাইকেল মার্কা সমাজবাদী পার্টি আর হাতি মার্কা বহুজন সমাজ পার্টি। না বুয়া না ভাতিজা। এমনিতে বুয়ার মাথায় এখন অসংখ্য হাতির চাপ! শেয পর্যন্ত সত্যিই হাতি মূর্তির দাম চোকাতে হলে ঠিক কি হবে তা কল্পনাও করতে পারছেন না বহেনজি। আর উত্তরপ্রদেশ রাজনীতির প্রাণপুরুষ নেতাজি মুলায়ম বুধবার সংসদে সনিয়া গাঁধীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেই দিয়েছেন যে তিনি মোদিকে আর একবার প্রধানমন্ত্রীর আসনে চান। তাঁর এমন মন্তব্যের পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। জাতীয় রাজনীতির কারবারীরা ভাবতে শুরু করেছিলেন আবারও উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলতে পারে। এদিন রাতে পাওয়ারের বাড়ির বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির কোনও নেতা হাজির না হওয়ায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। কারণ পার্টির প্রধান মুলায়ম সিংহ যাদব বা পুত্র অখিলেশ কোনও বৈঠকে হাজির না হলেও, প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত পাঠান রামগোপাল যাদব কিংবা কিরণময় নন্দকে। কিন্তু এদিনের বৈঠকে তেমনটা হয়নি। মায়াবতীর দলের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লির বৈঠকগুলিতে প্রতিনিধিত্ব করেন সতীশ মিশ্র। কিন্তু বুধবার রাতের ৬ নম্বর জনপথের বৈঠকে তিনিও ছিলেন না বলেই খবর মিলেছে। মায়াবতী বা মুলায়ম সিংহেয়ের পার্টির কোনও প্রতিনিধি কেন হাজির ছিলেন না? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি বৈঠকে হাজির কোনও নেতা। গরহাজির কেন? এই প্রশ্ন এড়িয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী বলেন, “ বৈঠকে হাজির নেতারা একমত হয়েছেন একটি ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে বিজেপি সরকার ও তার দুর্নীতিকে তুলে আনা হবে। বিজেপিকে হটাতে আমরা একজোট হয়ে লড়ব।” রাহুল গাঁধীর মতোই অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ এড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা জাতীয় স্তরে একসঙ্গে লড়ব। আমাদের একটা ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি হয়েছে। আমাদের নির্বাচন পূর্ববর্তী জোট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীকে এই ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি তৈরি হয়ে গেলেই আমরা সেটা নিয়ে বৈঠকে বসব।” বৈঠকে ঠিক হয়েছে দিল্লিতেই চলতি মাসের ২৬,২৭ ও ২৮ তারিখে আবারও বৈঠকে বসবে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু বৈঠকগুলিতে সমাজবাদী পার্টি কিংবা মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির যোগ দেবে কিনা সে ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বৈঠকে হাজির নেতারা। প্রসঙ্গত, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্যে দেশে প্রথম রাজনৈতিক জোট বেঁধেছে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি। অথচ জাতীয় স্তরে যখন নরেন্দ্র মোদিকে হঠানোর কথা হচ্ছে, তখন সেই বৈঠকেই তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে জলঘোলা হতে শুরু হয়েছে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *