Breaking News
Home / TRENDING / গণেশ শুধু সিদ্ধির ভাণ্ডার নন, বুদ্ধিরও ভাণ্ডার

গণেশ শুধু সিদ্ধির ভাণ্ডার নন, বুদ্ধিরও ভাণ্ডার

পার্থসারথি পাণ্ডা : 

বেনেদের সমৃদ্ধির দেবতা হয়ে ওঠার পেছনে গণেশের উপস্থিতবুদ্ধির ঘনঘটাই বেশি দায়ী। কারণ, ব্যবসা চালাতে গেলে উপস্থিত বুদ্ধি একান্তই জরুরি। এছাড়া ইঁদুর তাঁর বাহন হলে হবে কী, গণেশ হচ্ছেন দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চটপটে। পণ্ডিতও। তাই ব্যাসদেব ‘মহাভারত’ অনুলিখনের কাজে গণেশ ঠাকুরকেই নিয়োগ করেছিলেন। এ-হেন গণেশের পাণ্ডিত্য ও বুদ্ধিমত্তার একটা গল্প বলি…

কার্ত্তিক আর গণেশ দুজনেরই একবার বিয়ের জন্য আর তর সয় না। ইনি বলেন—আমি আগে করব, উনি বলেন—আমি আগে। কার্তিকের যুক্তি, তিনি বড়, তাই বিয়েও তিনি আগে করবেন; গণেশ এসব ছেঁদো যুক্তির ধার ধারেন না, আগে জন্মালেই যে আগে বিয়ে করতে হবে, এমন কোন কথা নেই…। দুজনের কেউ আর নিজের জায়গা থেকে নড়েন না। কাজেই, মধ্যস্থতায় নামতে হল শিব আর পার্বতীকে। শিব বললেন, শোন বাপু, ওসব যুক্তিতর্কে গিয়ে কাজ নেই; তার চেয়ে দুজনের মধ্যে সুস্থ একটা প্রতিযোগিতা হোক, তোমাদের মধ্যে আগে যে ব্রহ্মাণ্ড ঘুরে আমার কাছে আসবে, আমি তারই বিয়ে আগে দেব। ঠিক আছে?

বাবার শর্তে রাজি হয়ে গেলেন দুইভাই। কার্ত্তিক ময়ূরের পিঠে চেপে তক্ষুনি বেরিয়ে পড়লেন ব্রহ্মাণ্ড ঘুরে আসতে। বিশাল বপু গনেশের তখনও নড়চড়ের নামগন্ধ নেই। কার্ত্তিক চোখের বাইরে চলে যেতেই গনেশ একটু মুচকি হাসলেন, তারপর ঘরের ভেতর থেকে বাঘছালের আসন এনে উঠোনে পাতলেন এবং হাতজোড় করে শিব আর পার্বতীর কাছে প্রার্থনা জানালেন তার ওপরে এসে বসার জন্য। শিব-পার্বতী তো অবাক, ওমা, কেন? গণেশ বলেন, আহা, এসো না বসই না একটু…

শিব-পার্বতী কি আর করেন, এসে বসলেন আসনে। পাশাপাশি। তাঁরা বসতেই গণেশ তাঁদের দুজনকে একবার প্রদক্ষিণ করে সামনে এসে হাতজোড় করে দাঁড়ালেন। বললেন, এবার তাহলে আমার বিয়েটা দিয়ে দাও বাবা…
মানে?
মানে…শাস্ত্রে বলেছে বাবামা কে প্রদক্ষিণ করলেই ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করা হয়ে যায়… তোমাদের প্রদক্ষিণ করে শাস্ত্রমতে আমার ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ তাহলে হয়ে গেল। দাদা এখনও ফেরেনি, তার মানে প্রতিযোগিতায় আমিই জয়ী…তাই না?

ছেলের কথা শুনে ও তাঁর বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে শিব-পার্বতী হেসে ফেললেন। তারপর ঋদ্ধি ও সিদ্ধির সঙ্গে গণেশের বিয়ে দিয়ে দিলেন। ওদিকে কার্ত্তিক হন্তদন্ত হয়ে ব্রহ্মাণ্ড ঘুরতে ঘুরতে পেছন নীচে ফিরে ফিরে দেখেন আর গনেশকে কোথাও দেখতে না পেয়ে তাঁর ভারি আনন্দ হয়! খালি ভাবেন এ প্রতিযোগিতায় তিনিই জিতবেন, ইঁদুর নিয়ে এই দৌড় জেতা গণেশের পক্ষে অসম্ভব। এসব ভাবতে ভাবতে সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের চক্কর মেরে ঘরে পৌঁছতেই কার্ত্তিক খেলেন রামধাক্কা! বিয়ে-থা করে সংসারী গণেশকে দেখে এক্কেবারে থ হয়ে গেলেন। এটা হল কেমন করে? বাবা-মার মুখে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে নিজের ভালোমানুষির ওপর তাঁর ভারি রাগ হল। সেই রাগেই কোনদিন তিনি আর বিয়েই করলেন না…

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *