Breaking News
Home / TRENDING / হাইকোর্টে চাকরির প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস কলকাতা পুলিশের

হাইকোর্টে চাকরির প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস কলকাতা পুলিশের

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।

চাকরির প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। এই কাজে বড়সড় সাফল্য পেল লালবাজারের অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের (Anti Fraud Section) আধিকারিকরা। একটি প্রতারণার ঘটনায় তদন্তে নেমে একে একে ৮ জন পান্ডাকে গ্রেফতার করল তাঁরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সমান্তরাল ভাবে কলকাতা হাইকোর্টে কাজ করছিল এই চক্রটি। রাজ্যজুডে ছড়িয়ে ছিল তাদের নেটওয়ার্ক।ঘটনার সূত্রপাত নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়ার মালুমগাছায়। এলাকার দুই যুবক আলমগির মণ্ডল ও খোকন ঘোষ দীর্ঘদিনের পরিচিত। তিনিই আলমগিরকে বলেছিলেন, কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর জানাশোনা আছে। লকডাউনে বেশ কয়েকটা ক্লার্কের পদ খালি রয়েছে। সেখানে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে আলমগিরের থেকে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতায় খোকন। এরপর নকল ইন্টারভিউ নিয়ে কাজেও যোগদান করানো হয়। তবে লকডাউনের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করানো হয়েছিল বেশ কিছুদিন। গত ৬ জুলাই সশরীরে হাইকোর্টে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। সেখানে এসে হাজিরার খাতাতে সইও করানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু কাজ না দেওয়ায় ভবঘুরের মতো আদালত চত্ত্বরে ঘুরছিলেন আলমগির। এক আইনজীবীর তা দেখে সন্দেহ হয়। তখনই তাঁকে আর নকল অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টার নিয়ে বসে থাকা প্রীতম হাতি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। আলমগির মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে রুজু হয় মামলা।

বাগুইআটি-কেষ্টপুরের কমলা পার্কের বাসিন্দা প্রীতমের কাছে যে নকল হাজিরা খাতা পাওয়া গিয়েছিল, তাতে আলমগির মণ্ডল ছাড়াও আরও নাম ছিল। বোঝাই যাচ্ছিল,এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে। তদন্তের ভার দেওয়া হয় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের হাতে। প্রীতমকে জেরা করে অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের অফিসারেরা জানতে পারেন, এই চক্রের পাণ্ডারা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে আছে। তার ভিত্তিতেই ১১ জুলাই আলিপুরের গোপাল নগরের রাস্তা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রদীপ রায়কে। প্রদীপের বাড়ি বেলেঘাটায়। ওই দিনই প্রদীপের কাছে থেকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় তার সঙ্গী প্রসেনজিৎ সাউকে।

অভিযুক্ত খোকন ঘোষকে পাকড়াও করতে অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের অফিসারদের একটা দল নদিয়া চলে গিয়েছিলেন। ১১ জুলাই, ওই একই দিনে নদিয়ার কালীগঞ্জের দেবগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় খোকন ঘোষকে। খোকনের বিবৃতি থেকে পাওয়া যায় এই প্রতারণাচক্রের আর এক অভিযুক্তের হদিস। সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠেন অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের অফিসাররা। ওই দিনই তাঁদের হাতে ধরা পড়ে ওই এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী রতন সিংহ। ১৪ জুলাই, উল্টোডাঙ্গার একটি ঠিকানায় রেইড করে ধরা হয় সায়ন বসু নামে খোকনের আরেক সঙ্গীকে। সায়ন বসুর বাড়ি বর্ধমানে। তাকে জেরা করে পাওয়া যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজিতপুরের অনন্ত পালের নাম। নিউটাউনের ইউনিটেক বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে অনন্ত পালকে গ্রেফতার করা হয় ১৭ জুলাই। অনন্ত পাল জাল নথি তৈরিতে দক্ষ এবং চক্রের অন্যতম প্রধান পান্ডা। অনন্তকে যে এসব কাজে সাহায্য করত, সেই পার্থ ঘোষকেও গ্রেফতার করা হয় বাগুইআটি থেকে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর জাল নথিপত্র। ধৃতদের মধ্যে প্রীতম হাতি ছাড়াও রয়েছেন প্রদীপ রায়, প্রসেনজিৎ সাউ, খোকন ঘোষ এবং রতন সিংহ এখন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে। সায়ন বসু, অনন্ত পাল এবং পার্থ ঘোষ পুলিশ হেফাজতে। তাঁদের লাগাতার জেরা চলছে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *