চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
সোমেন মিত্র (Somen Mitra) প্রয়াত হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিধান ভবনের আনাচে-কানাচে ভাসছে একাধিক নাম। রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে খুব একটা ভালো জায়গায় নেই কংগ্রেস। লোকসভা ভোটে এককভাবে লড়াই করে দুটি আসন পেলেও প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ নেমে গিয়েছে ৮-এ। তাছাড়া কংগ্রেস বিধায়করা দল ছেড়ে কেউ কেউ চলে গিয়েছেন হয় তৃণমূল কিংবা বিজেপিতে (BJP)। তা সত্ত্বেও এমন জরাজীর্ণ কংগ্রেসের দায়িত্ব নিতে তৎপর প্রদেশ কংগ্রেসের (Congress) সব শীর্ষ নেতারা। এই দীর্ঘ তালিকায় যিনি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি হলেন কংগ্রেসের লোকসভার দল নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। একে একে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন প্রদীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নান। সম্প্রতি এই তালিকায় ঢুকে পড়েছেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী দীপা দাশমুন্সিও।
অধীর চৌধুরী আবার নিজের লোকসভার দলনেতার পদ বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে বসাতে চান নিজের কোনও অনুগামীকে, এমনটাই সূত্রের খবর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, জরাজীর্ণ এমন বেহাল দশায় থাকা কংগ্রেস নেতারা কেন সভাপতির পদে বসতে চাইছেন ? কারণ, বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদটি কার্যত কাঁটার মুকুটে পরিণত হয়েছে। কারণ, সাংগঠনিকভাবে দুর্বল কংগ্রেসকে চালাতে মাসে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কেবলমাত্র বিধান ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত বিষয় মাসে খরচ হয় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও, কংগ্রেসের জেলা ও শাখা সংগঠনগুলিকে নানা কর্মসূচিতে সাহায্য পাঠানোর মত বিষয় তো রয়েছেই। পাশাপাশি নানা মামলায় ফেঁসে থাকা দুস্থ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও আইনি সাহায্য দিতে হয় প্রদেশ কংগ্রেসকেই।
অভ্যন্তরীণ বিষয় ছাড়াও বাহ্যিক বেশ কিছু বিষয় রয়েছে কংগ্রেসের সামনে। লোকসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট ভেঙে যাওয়ার পর, দু’পক্ষের ভোটব্যাংকে ধ্বস নেমেছে। এই সুযোগে অস্বাভাবিক হারে ভোট বাড়িয়েছে বিজেপি। বিকল্প বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসে ইতিমধ্যে তারা বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা শুরু করেছে। রাজ্যের ভোট সরাসরি দুটি মেরুতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এমতাবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে শুধু একদিকেই নয় জোড়া সংকটে পড়তে হবে নতুন সভাপতিকে, এমনটাই মত বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
প্রদেশ সভাপতিকে দায়িত্ব নিয়ে যেমন বিধান ভবন ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে হবে, তেমনই যোগান রাখতে হবে পর্যাপ্ত অর্থের। কারণ, নির্ঘণ্ট অনুযায়ী আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল-মে মাসের রাজ্য বিধানসভার সাধারণ নির্বাচন। সেখানে বামেদের সঙ্গে জোট হোক বা না হোক, কংগ্রেসের জন্য ভোট যুদ্ধের মঞ্চ প্রস্তুত করতে হবে। প্রস্তুতিতে যেমন লাগবে সাংগঠনিক জোর, তেমনি লাগবে অর্থবল। আব্দুল মান্নান ছাড়া, আগে প্রদীপ ভট্টাচার্য ও অধীর চৌধুরী কংগ্রেস সভাপতি হয়েছেন। এদের সময়তেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কংগ্রেস বিধায়ক তথা নেতা কর্মী তৃণমূলে গিয়েছেন। সেই সময়তেই বিধান ভবনে কান পাতলে শোনা যেত, বেতন সহ নানা সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার কথা। নতুন সভাপতি যেই হন, এই মুকুট পরে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন না তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news