পার্থসারথি পাণ্ডা : 
পুব বাংলার রান্নার ওপর রবীন্দ্রনাথের বেশ দুর্বলতা ছিল। একবার বিশ্বভারতীর কর্মী সুধীরচন্দ্র করের মা কামিনীসুন্দরী এলেন দেশের বাড়ি ফরিদপুর থেকে শান্তিনিকেতনে ছেলের কাছে। তখন তাঁর বয়স পঁচাত্তর পার। তবু, সেই বয়সেও তিনি যেমন ছিলেন শক্তসমর্থ, তেমনি রান্নাতেও ছিল তাঁর দারুন সুখ্যাতি। তাই ছেলের কাছে এসে তিনি অপূর্ব সব পদ আর পিঠে বানিয়ে খাওয়াতে লাগলেন তাঁকে। অবশ্য সে-সবের স্বাদ পাওয়ার সৌভাগ্য থেকে পাড়াপড়শিরাও বঞ্চিত হল না। শান্তিনিকেতনে আসার পর থেকেই কামিনীদেবীর মনে মনে খুব ইচ্ছে কবিকেও একদিন রেঁধে খাওয়ান, কিন্তু কেমন যেন সাহস হয় না। ভাবেন, কবি কি তাঁর পাড়াগেঁয়ে ঘরোয়া রান্না পছন্দ করবেন!
ওদিকে করমশাইয়ের পাড়াপড়শি মারফৎ খবর ঘুরতে ঘুরতে কবির কানে গিয়ে পৌঁছল কামিনীদেবীর রান্নার সুখ্যাতির কথা। আর সে-কথা শোনার পর থেকেই কবিরও ভারি ইচ্ছে জাগে তাঁর হাতের রান্না খেয়ে দেখার। তাই একদিন করমশাইকে হাতেনাতে পেয়ে রবীন্দ্রনাথ রহস্য করে বললেন, শুনলাম দেশ থেকে তোমার মা এসেছেন, তিনি যে যত্ন করে রেঁধে খাওয়াচ্ছেন, সেটা অবশ্য তোমার চেহারা দেখে বোঝাই যাচ্ছে।
তখন কবির ইচ্ছের কথা তাঁর বুঝতে আর বাকি রইল না। সঙ্গে সঙ্গে তিনিও মুচকি হেসে বললেন যে, মার খুব ইচ্ছে আপনাকে একদিন রেঁধে খাওয়ান।
সে-কথা শুনে রবীন্দ্রনাথ তো ভারি খুশি। বললেন, সেই ভালো।
করমশাই বাড়িতে এসে মাকে কবির ইচ্ছের কথা বলতে, কামিনীদেবীর আনন্দ আর ধরে না। স্বয়ং কবি তাঁর রান্না খেতে চেয়েছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে! তবে, তাঁর চিন্তার কথাটাও ছেলেকে বললেন। করমশাই তখন মাকে বললেন যে, কম মশলায় ঘরোয়া রান্নাই গুরুদেবের পছন্দ।
তাহলে আর ‘একদিনের’ জন্য বসে থাকা কেন। সেদিনই বাড়িতে হয়েছে ঝিঙে পাতুরী, মাছের মুড়ো দিয়ে ডাল, সুক্তো, আম ডাল, মাছের ঝোল। এছাড়া পিঠেপুলির ভাঁড়ারে পাটিসাপ্টা আর রসমাধুরী তো আছেই। অমনি কবির জন্য সেসব খাবার গুছিয়ে নিয়ে কামিনীদেবী মহাউৎসাহে হাজির হলেন গিয়ে একেবারে তাঁর খাবার টেবিলে। সেখানে কবি তখন সবে খেতে বসেছেন। কামিনীদেবী কবিকে বললেন, আজ বাড়ির খাবার না-হয় নাই খেলেন, বরং এগুলো একটু চেখে দেখুন।
চোখের সামনে পছন্দের পদ আর পিঠে দেখে কবি হেসে বললেন, সে আর বলতে!
তক্ষুনি বাড়ির খাবার সরিয়ে দিয়ে কামিনীদেবীর আনা সুক্তো দিয়ে ভাত আর পিঠে-পুলি ভারি তৃপ্তির সঙ্গে খেতে লাগলেন কবি। খেতে খেতে চলতে লাগল কামিনীদেবীর সঙ্গে আলাপ আর তাঁর রান্নার সুখ্যাতি। কথায় কথায় কামিনীদেবীও জানতে পারলেন কবি মাছমাংস তেমন পছন্দ করেন না, পিঠে আর নিরামিষ পদই ভালবাসেন সবচেয়ে বেশি। তারপর থেকে তিনি যতদিন শান্তিনিকেতনে ছিলেন, প্রায়শই নানারকম নিরামিষ পদ আর পিঠপুলি বানিয়ে কবিকে খাইয়ে আসতেন। সেসব খেয়ে কবি তো তৃপ্ত হতেনই, কামিনীদেবী হতেন ধন্য।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news