পার্থসারথি পাণ্ডা:
কাল সন্ধ্যেবেলায় গড়িয়াহাট থেকে ফুটপাথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ফিরছি রাসবিহারী মোড়ের দিকে। একটা জরুরি ফোন করব বলে একটু দাঁড়িয়েছি। পেছনে একটা সিগারেট কোল্ড ড্রিঙ্কস কাম কনফেকশনারীর দোকান। খুব ছিমছাম সাজানো। দোকানদার বসে আছেন সুদৃশ্য প্লাইউড দিয়ে বানানো ব্যারিকেডের ওপারে। চাঁদপানা মুখে রসিয়ে রসিয়ে গুটখা সুপুরি চিবোচ্ছেন। দোকানে একটাও খদ্দের নেই। সেই ফুরসতে হঠাৎ দোকানিমশাই সেই ব্যারিকেডের ওপার থেকে কোমর টেরিয়ে সারসের মতো ঘাড় এগিয়ে অসম্ভব পটু অভ্যাসে পিচিক করে ছুঁড়ে দিলেন গুটখাথুতুর পিচকারি। ছেতরে পড়ল সেটা দোকানেরই সামনে এবং আমারই পাশে। স্বভাববশত আমার ভুরু কুঁচকাল, এটা কি হল? চাঁদপানা মুখে ছোপধরা দাঁতের ছটায় তখন একটা নির্লজ্জ হাসি, নির্বিকার গলায় ভেসে এলো শুধু, ‘সরি’!
এটা নতুন কিছু নয়, ভাবলে ভাবার, নইলে কিছুই না। একটু ঘুরে দোকানের পেছনে গিয়ে থুতু ফেলা যায়, কিন্তু কষ্ট করে কে যায়! একটু এগোলেই পাবলিক টয়লেট, সেখানে অত কষ্ট করে কে যায়, রাস্তার পাশে দেওয়াল থাকতে দুটাকা খরচা করে কে! ওই তো মাত্র তিরিশ সেকেণ্ডের কাজ! তার জন্য আবার এখান নয়, সেখান! আমরা যেখানে টয়লেট করব বলে দাঁড়াই, সেটা আপনার বাড়ির দেওয়াল হতে পারে, পাড়ার অন্ধকার গলি হতে পারে, মিউনিসিপ্যালিটির ড্রেন হতে পারে, কিন্তু সেটাই আমাদের কাছে পাবলিক টয়লেট! এই তো কিছুদিন ধরে ভারতকে স্বচ্ছ রাখার একটা চেষ্টা হল, সরকারি তরফে অনেক প্রচার হল। কিন্তু আমরাও ভারতবাসী বাবা, বাপঠাকুরদাকে ভুলে যেতে পারি, কিন্তু তাদের ঐতিহ্য ভুলে যাব, এমন কুসন্তান আমরা নই!
সেই উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইংরেজরা পর পর দুবার আইন করে চেষ্টা করেছিল রাস্তাঘাট পথেপার্কে কলকাতাবাসীদের মুক্তকচ্ছ হওয়া আটকাতে। পারেনি। কারণ, ইংরেজদের স্বভাবটাই ছিল নিজের বেলায় আঁটিশুঁটি, পরের বেলায় দাত কপাটি! ইংরেজপুঙ্গবেরা রাস্তায় যেখানে সেখানে হিসু করার এন্তার ছাড় পেয়েছিলেন, পুলিশ এখনকার মতোই দেখলেও কিছু বলত না, শুধু এ দেশীয় দেখলেই ধরে নিয়ে গিয়ে ফাটকে পুরত। কিন্তু, তাতেও বঙ্গসন্তানদের দমাতে পারেনি তারা। ফলে অচিরেই তারা রণেভঙ্গ দিল। প্রকাশ্য মুত্র বিসর্জন নিবারণী আইনের ওখানেই ইতি হল। বেশকিছু কাল আগে সুব্রত মুখোপাধ্যায় কলকাতার মেয়র থাকাকালীন একবার যাওয়ার পথে এক মুক্ত মুত্র বিসর্জনকারীকে বেধড়ক ঠেঙিয়েছিলেন বলে খবর হয়েছিল। কিন্তু তাতেও বঙ্গবাসীর চৈতন্য হয়নি। কোনদিন হবে কিনা কে জানে!
প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়, সারা বছরই নানারকম পরিবেশ সচেতনতা শিবির হয়, কিন্তু আম মানুষের তাতে ভারি বয়ে গেল। আমার ঘরে এ সি আছে, সেটাতে আর কারও অসুবিধে হচ্ছে কিনা তাতে বয়ে গেল! আমার ছেলে দুধেভাতে, আর কার ছা মরল কি না তাতে বয়েই গেল! বাজারে গেলে ক্যারি ব্যাগ পাবো না! বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে যেতে হবে! হাউ ডিসগাস্টিং! তারপরই বলব, পলিটিক্স করে দেশটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে, এ দেশে কিচ্ছু হবে না! এই হচ্ছি আম আমরা। মহামতি যিশু বেঁচে থাকলে, পরিবেশের ক্রুড ক্রুশে বিদ্ধ হতে হতে শেষ বারের মতো বলে উঠতেন, হে ঈশ্বর তুমি এদের ক্ষমা কর, এরা কি করছে নিজেই জানে না…
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news